নিজের এলাকাতেই চরম বিক্ষোভের মুখে সাংসদ! মিতালী বাগকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে গাড়িতে ধাক্কা
নিজের সংসদীয় এলাকাতেই সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভের মুখে এনসিপিআই সাংসদ মিতালী বাগ! গাড়িতে ধাক্কা ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে উত্তপ্ত আরামবাগ
Truth of Bengal: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপের মর্মান্তিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৯ জন। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বলি হয়েছেন আরামবাগের এক তরুণী ও তাঁর দুই আত্মীয়। শোকাচ্ছন্ন সেই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানাতে মৃতার বাড়িতে গিয়েছিলেন এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ মিতালী বাগ। কিন্তু শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল তাঁকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সাংসদের গাড়ি ঘিরে ধরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং গাড়িতে ধাক্কা মারারও গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
জানা গিয়েছে, চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় নিহত আরামবাগের বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা পিয়ালী প্রামাণিকের বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে পৌঁছান সাংসদ মিতালী বাগ। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার সময় পাশেই মলয়পুরের রাজাবাজার এলাকায় স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁর পথ আটকান এবং গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে সাংসদকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া দলবদলের রাজনীতি এবং দুর্ঘটনার দু’দিন কেটে গেলেও কেন তিনি এত দেরিতে পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন জনতা। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন নিজে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসার কথা ঘোষণা করেছেন, ঠিক তার আগেই তড়িঘড়ি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে হাজির হয়েছেন সাংসদ। মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছানোর প্রথম লগ্নে কেন তাঁকে পাশে পাওয়া গেল না, সেই প্রশ্ন তুলেই এই বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
কিছু সময় ধরে উত্তেজনা চলার পর কোনওমতে ফাঁকা পেয়ে সাংসদের গাড়িটি দ্রুত গতিতে এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশের মধ্যে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাও যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুরো ঘটনাটি নিয়ে সাফাই দিয়ে সাংসদ মিতালী বাগ বলেন, “একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলাম। এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যাপার নেই। প্রশাসনকে জানিয়েই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।” অন্যদিকে, আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রশান্ত দিগার দাবি করেছেন, “জনগণ ওনার পাশে নেই। গত পাঁচ বছরে তিনি কোনও কাজ না করায় সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ বিস্ফোরিত হয়েছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই, এটি সম্পূর্ণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ।”






