রাজ্যের খবর

১৬ ঘণ্টা লেট ট্রেন, আর সহ্য নয়! ষষ্ঠীর সকালেই কামারকুণ্ডু স্টেশনে বন্দে ভারত আটকে চরম বিক্ষোভ

বন্দে ভারতকে রুখে দিলেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা! রেললাইনে নেমে নজিরবিহীন অবরোধে স্তব্ধ হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন

Truth of Bengal: উৎসবের আনন্দ ম্লান করে মহাষষ্ঠীর সকালেই রেলযাত্রীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত হল। নির্দিষ্ট সময়ের থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা দেরিতে চলা একটি দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরা ধৈর্যের বাঁধ হারিয়ে রেললাইনেই নেমে পড়েন এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেস আটকে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। এর ফলে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন শাখায় দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় এবং তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় হুগলির কামারকুণ্ডু স্টেশনে।

জানা গিয়েছে, কন্যাকুমারী থেকে কামাখ্যাগামী আপ ডিব্রুগড় বিবেক এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা অতিরিক্ত দেরিতে চলছিল। গতকাল দুপুর আড়াইটে নাগাদ গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ট্রেনটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল। ডানকুনি হয়ে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন দিয়ে চলাচলকারী ওই ট্রেনটি এদিন সকালে কামারকুণ্ডু স্টেশনে এসে পৌঁছানোর পর ফের সিগনালে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। অভিযোগ ওঠে, পেছনের ট্রেনটিকে গুরুত্ব না দিয়ে সেই লাইন দিয়েই আপ হাওড়া-গয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসকে পাস করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছিল।

আর তাতেই ধৈর্য হারান চরম দুর্ভোগের শিকার হওয়া বিবেক এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। হুড়মুড়িয়ে তারা ট্রেন থেকে নেমে সরাসরি রেললাইনে চলে আসেন এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি রোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একের পর এক স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে স্টেশন চত্বর। খবর পেয়ে অবিলম্বে জিআরপি ও রেলপুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তবে পুলিশকে দেখেই বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। যাত্রীদের স্পষ্ট অভিযোগ, “আমাদের ট্রেন ইতিমধ্যেই ১৬ ঘণ্টার বেশি দেরিতে চলছে। ন্যূনতম মানবিকতার তোয়াক্কা না করে আমাদের ট্রেন সিগনালে আটকে রেখে অন্য ট্রেন পাস করানো হচ্ছে কেন?”

এই নজিরবিহীন অবরোধের জেরে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কামারকুণ্ডু স্টেশনে আটকে থাকে। এর ফলে ওই রুটে পিছনের দিকে থাকা বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনও থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অচলাবস্থা কাটাতে রেলপুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালায়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন যাত্রীরা। তবে এই আকস্মিক বিক্ষোভে যাত্রীদের ওপর কোনও আঘাত না এলেও, মহাষষ্ঠীর সকালে ট্রেন চলাচলে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। পরবর্তীতে রেলের তরফ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

Related Articles