রাজ্যের খবর

পুরভোটের আগে ইভিএম সংকট! হাইকোর্টের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে তথ্য মোছার অনুমতি পেল কমিশন

পুজোর পরই রাজ্যের মেগা পুরভোট! ইভিএম সংকটের জট কাটাতেই কলকাতা হাই কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

Truth of Bengal: দুর্গোৎসব শেষ হলেই রাজ্যজুড়ে বেজে যাবে পুরভোটের (West Bengal Municipal Election) চূড়ান্ত ঘণ্টা। সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট পরিচালনার জন্য কমিশনের হাতে পর্যাপ্ত ইভিএম (EVM) না থাকায় একটি বড় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পূর্বে আদালতের নির্দেশে বহু ইভিএমের তথ্য সংরক্ষিত থাকায় সেগুলি ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন। আর সেই মামলার শুনানিতেই এক যুগান্তকারী ও স্বস্তিদায়ক রায় দিল আদালত।

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওমনারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, পূর্বে রক্ষিত ইভিএমগুলির মেমোরি বা তথ্য মুছে ফেলা যেতে পারে। তবে বিশেষ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিগত কলকাতা পুরসভার তিনটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড এবং কাঁথি পুরসভার নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএমগুলির ডেটা অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এগুলি বাদে বাকি সমস্ত ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলে আসন্ন নির্বাচনের জন্য সেগুলি ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারবে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে যে, আইনি জট কাটলে তারা আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ধাপে ধাপে বকেয়া পুরসভাগুলির নির্বাচন সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আদালতের এই রায়ের পর ভোটগ্রহণের পথে আর কোনও বড় আইনি বাধা রইল না।

রাজনৈতিক সূত্রে খবর, রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের পরই অবিলম্বে বকেয়া পুরবোর্ডগুলিতে ভোট করানোর পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১২টি জেলার প্রায় ১৫টি পুরসভায় কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই এবং সেখানে দীর্ঘকাল ধরে প্রশাসকের মাধ্যমেই কাজ চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাওড়া পুরনিগমে, যেখানে ২০১৩ সালের পর দীর্ঘ ১৩ বছর কোনও ভোট হয়নি। ২০১৮ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াই কাজ চলছে।

সব মিলিয়ে কলকাতা ও হাওড়া-সহ মোট ৭টি বড় পুরনিগম ও পুরসভায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট করানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। হাই কোর্টের এই রায়ের ফলে ইভিএমের ঘাটতি দূর হওয়ায় ভোট প্রক্রিয়া এখন আরও দ্রুত গতি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles