প্রধান বিচারপতির না সত্ত্বেও নাছোড়বান্দা বিরোধীরা! দিল্লির রাজপথে মেগা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’
দিল্লিজুড়ে ১৬৩ ধারা জারি ও ৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ! বিরোধীদের মিছিল ঘিরে দুর্ভেদ্য দুর্গ রাজধানী
Truth of Bengal: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আবেদন সরাসরি খারিজ হওয়ার পরেও নিজেদের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও সরছে না বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Alliance)। ভোট চুরি বন্ধ, এসআইআর প্রক্রিয়া রোধ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। প্রধান বিচারপতির অফিস থেকে রবিবার রাতেই ইমেল মারফত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই মুহূর্তে সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রবিবারের সেই ধাক্কাকে উপেক্ষা করে সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ কনট প্লেস-বারাখাম্বা রোড সংযোগস্থল থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে সুবৃহৎ পদযাত্রার সূচনা করতে চলেছেন বিরোধী নেতারা।
রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার যৌথ নেতৃত্বে এই মেগা মিছিলের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘দিল্লি চলো – মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’। ইন্ডিয়া গেট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই পদযাত্রা যাওয়ার কথা রয়েছে। এই ঐতিহাসিক অভিযানের আগে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের মধ্যে প্রেম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও খাঁটি দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলা।
এদিকে, বিরোধী জোটের এই হাই-ভোল্টেজ সুপ্রিম কোর্ট অভিযান ঠেকাতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো রাজধানী দিল্লিকে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছে পুলিশ প্রশাসন। সেন্ট্রাল দিল্লির সংবেদনশীল চত্বরগুলিতে বিপুল পরিমাণে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ও সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত দিল্লির প্যাটেল চক, জনপথ, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং বারাখাম্বা রোড, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬টি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, বিরোধীদের এই জমায়েত বানচাল করতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা জারি করে কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দিল্লি পুলিশ।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সচিবালয় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সরাসরি প্রশাসনিক স্তরে সাক্ষাৎ করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে বিরোধীরা স্মারকলিপি দিতে চান, তার বেশিরভাগই ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং যথাযথ নিয়ম মেনে সেখানে শুনানি চলছে। সাংবিধানিক পরিধির কথা মনে করিয়ে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলাদাভাবে এভাবে দেখা করার এক্তিয়ার আদালতের নেই। আদালতের প্রধান কাজ আবেদন শুনে রায়দান করা। তবে সর্বোচ্চ বিচারালয় যে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেকথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা পেরিয়ে বিরোধীদের এই কর্মসূচি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।




