দেশ

জ্ঞানেশের ইস্তফা দাবিতে একজোট বিরোধীরা! রাষ্ট্রপতির সময় পেয়ে বৈঠকে মমতা-রাহুল

প্রতিনিধি দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ একাধিক বিরোধী নেতা থাকবেন বলে সূত্রের খবর

Truth of Bengal: টানা তিন দিন দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভের পর এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছে INDIA জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে শুক্রবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা। সেই প্রতিনিধি দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ একাধিক বিরোধী নেতা থাকবেন বলে সূত্রের খবর। গত কয়েক দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী জোট। মঙ্গলবার সংসদের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের উদ্দেশে মিছিল করেন সাংসদরা। বুধবার আচমকাই যন্তরমন্তরে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী নেতারা। বৃহস্পতিবার তাঁদের গন্তব্য ছিল রাজঘাট। এবার আন্দোলনের দাবি সরাসরি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরতে চাইছেন তাঁরা।

সূত্রের খবর, শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার আগে বিকেল ৫টা নাগাদ সংসদের সেন্ট্রাল হলে একত্রিত হবেন বিরোধী নেতারা। সেখান থেকে প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে। প্রতিনিধি সংখ্যা দশের বেশি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিনিধি দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি থাকবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, এনসিপি (শরদ) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সমাজবাদী পার্টির তরফেও প্রতিনিধি থাকতে পারেন। বিরোধীদের মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এসআইআর, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিও রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরা হতে পারে।

এদিকে শনিবার যন্তরমন্তরে ফের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেটি দলীয় কর্মসূচি না হলেও সেখানে INDIA জোটের কয়েকজন প্রতিনিধিকে দেখা যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, সারাদিনের পরিবর্তে রাত ৮টার সময় দেওয়া হল কেন? এর নেপথ্যে বিরোধীদের কর্মসূচির প্রচার সীমিত করার কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে বিরোধীদের ধারাবাহিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। শহরজুড়ে প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে সূত্রের খবর। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কড়াকড়ি করা হয়েছে। ৫৭টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে। এই নিরাপত্তা কড়াকড়ির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কপিল সিবল। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আগে কেন গণপরিবহণ বন্ধ করা হচ্ছে, কেন হোটেল পাওয়া যাচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষকে বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Related Articles