দেশ

২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষে মুক্ত ৩ শীর্ষ ‘ককরোচ’ নেতা! জামিন পেলেন ধ্রুব রাঠীও

দুপুর ২টোয় মেগা সাংবাদিক বৈঠক! দিল্লির ধরপাকড় কান্ডে এবার বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে চলেছে সিজেপি

Truth of Bengal: রাতভর শ্রীঘরে কাটানোর পর অবশেষে ২৪ ঘণ্টা পার করে মুক্তি পেলেন বিরোধী আন্দোলনের মুখেরা। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে সরব হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পাশাপাশি জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও মুক্তি দিল দিল্লি পুলিশ। কঠোর শর্তাধীনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার তাঁদের রেহাই দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সকালে অভিজিৎ দীপকে সহ সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্‌জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে হাজির করায় পুলিশ। সূত্রের খবর, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) নির্দিষ্ট ধারায় শান্তি বজায় রাখার কঠোর মুচলেকা নেওয়া হয়েছে তাঁদের থেকে। আগামী ১ বছর তাঁরা কোনওভাবেই এলাকায় শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না, এই বিশেষ আইনি শর্তেই অবশেষে মুক্তি মেলে তিন ‘ককরোচ’ নেতার। নেতাদের জামিন পাওয়ার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে বার্তা দিয়েছে সিজেপি। এক্স-হ্যান্ডেলে তারা স্পষ্ট লিখেছে, “অবশেষে দিল্লি পুলিশ আমাদের নেতাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হল। মনে রাখবেন, আরশোলা কখনও মরে না!” পুরো ঘটনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রবিবার দুপুর ২টোয় এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে দল।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের কাছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। তবে কর্মসূচির কোনো প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী জুড়ে ব্যাপক অভিযানে নামে দিল্লি পুলিশ। সিজেপি নেতারা আন্দোলন সফল করতে মুম্বই থেকে বিমানে চেপে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতেই উড়ানের ভেতর ঢুকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে আটক করা হয় দীপকে, আশুতোষ ও সৌরভকে। এর পর তাঁদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে বিএনএসএস-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারায় প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার দেখানো হয়।

একইভাবে শনিবার সকালে গুরুগ্রামের নিজ বাসস্থান থেকে তলব করে আটক করা হয়েছিল জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠীকেও। শনিবারে বিমানবন্দর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুরো ২৪ ঘণ্টা এই শীর্ষ নেতাদের ঠিক কোথায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিল পুলিশ প্রশাসন। তবে প্রবল আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ও ককরোচ নেতাদের মুক্ত করতে বাধ্য হল দিল্লি পুলিশ।

Related Articles