সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ! স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান
কলকাতা হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য
Truth of Bengal: রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে যে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল, আপাতত সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনও বাধা থাকছে না মিলনের। কলকাতা হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, আপাতত মিলন প্রধান নির্বাচনে অংশ নেবেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রামের ভোট যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার উপরও জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মামলাটি ফের শুনানি হতে পারে।
এদিন রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর বক্তব্য, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, বোমাবাজি-সহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণেই কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করার আবেদন জানানো হয়। যদিও মিলনের আইনজীবী রাজ্যের অভিযোগের বিরোধিতা করেন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের মধ্যে মামলার সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাটি ২০০৭ সালের এবং জমি সংক্রান্ত বিবাদের সূত্রে একসঙ্গে ৬৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এত বছর ধরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। এমনকি জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এতদিন কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চ। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই বরং প্রশ্ন ওঠা উচিত বলে কড়া পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বক্তব্য, “মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করানোর যে চেষ্টা হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টে সফল হয়নি। এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।” তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট মিলন প্রধানকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জয়, নন্দীগ্রামবাসীর জয়।” একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকেও আক্রমণ করেন শুভঙ্কর। তাঁর অভিযোগ, যেভাবেই হোক মিলনের জামিন বাতিল করিয়ে তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি কংগ্রেস নেতৃত্বের।





