দেশ

সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা নির্বাচন কমিশনের! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস শীর্ষ আদালতের

সোমবার মামলার শুনানিতে জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশন এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী-সহ একাধিক পক্ষকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত

Truth of Bengal: এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নজরে। সোমবার মামলার শুনানিতে জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশন এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী-সহ একাধিক পক্ষকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেও জবাব চাওয়া হয়েছে। তবে জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার আবেদন মানেনি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, শুধুমাত্র সংবাদপত্রের রিপোর্টের ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন।

মামলার সূত্রপাত ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনের পর। সেখানে দাবি করা হয়, এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও কমিশনের নামে একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। বিশেষ করে নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, সংশোধিত ফর্ম ৬-কে সুপ্রিম কোর্ট কখনও অনুমোদন দেয়নি। আদালত জানতে চেয়েছে, কার নির্দেশে ওই পরিবর্তন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নথি সামনে এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে বেঞ্চ।

মামলাকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট আইনে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিতে এবং মতভেদ থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিতে হবে। সেই বিধি বাস্তবে মানা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন আদালতের অন্যতম প্রশ্ন। আবেদনকারীদের তরফে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং যুক্তি দেন, যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত কমিশনের সম্মিলিত মত ছাড়াই নেওয়া হয়েছে, তবে তার বৈধতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আদালতও জানিয়েছে, রেকর্ডে যদি প্রমাণ হয় কোনও সিদ্ধান্ত আইন মেনে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন মামলাকারীরা। তবে সেই পর্যায়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।

Related Articles