সাদা শরীরে খয়েরি ডোরা, চোখে মায়াবী নীল আভা! দেরাদুনে পা রাখল বিরল প্রজাতির বাঘ ‘তেজস’
তেজসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরাখণ্ড পেল রাজ্যের প্রথম সাদা বাঘ
Truth of Bengal: সাদা শরীরজুড়ে খয়েরি ডোরা, সঙ্গে গভীর নীল চোখ—দেখলেই যেন থমকে যেতে হয়। এমনই বিরল সৌন্দর্যের অধিকারী সাদা বাঘ ‘তেজস’ এবার পৌঁছে গেল দেরাদুনে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে প্রায় ৫৫৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেরাদুন চিড়িয়াখানায় এসেছে আড়াই বছরের এই সাদা বাঘ। আর তেজসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরাখণ্ড পেল রাজ্যের প্রথম সাদা বাঘ। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির আওতায় এই আদানপ্রদান হয়েছে। এতদিন দেরাদুন চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাঁচ বছরের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ‘ভোলা’। তাকে পাঠানো হয়েছে গোয়ালিয়র চিড়িয়াখানায়। তার বদলেই দেরাদুনে এসেছে তেজস।
তেজসকে নিরাপদে দেরাদুনে নিয়ে আসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তৈরি করা হয় ১৩ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। সেই দলে ছিলেন রেঞ্জার দীক্ষা ভাট, পশু চিকিৎসক প্রদীপ মিশ্র-সহ বন দফতরের একাধিক আধিকারিক। বিশেষভাবে তৈরি উদ্ধারকারী গাড়িতে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার সফর শেষে দেরাদুনে পৌঁছয় তেজস। দীর্ঘ ৫৫৬ কিলোমিটার যাত্রাপথে তার শারীরিক অবস্থার উপর সারাক্ষণ নজর রেখেছিলেন পশু চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। তেজসকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডে প্রবল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তার সাদা লোম, খয়েরি ডোরা এবং গাঢ় নীল চোখ তাকে অন্য বাঘের থেকে একেবারে আলাদা করে তুলেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তেজস অ্যালবিনো নয়। ‘লিউসিজম’ নামে একটি বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই তার শরীরে এই বিরল রঙ দেখা যায়।
তবে দেরাদুন চিড়িয়াখানায় পৌঁছে গেলেও এখনই দর্শকরা তেজসকে দেখতে পাবেন না। আপাতত তাকে ২০ দিনের কোয়ারান্টিনে রাখা হবে। এই সময়ে শুধুমাত্র তার পরিচারক এবং পশু চিকিৎসকরাই কাছে যেতে পারবেন। কোয়ারান্টিন চলাকালীন তেজসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপর নজর রাখা হবে। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে প্রায় এক মাস পর পর্যটকদের সামনে আনা হবে তাকে। ফলে দেরাদুন চিড়িয়াখানার নতুন তারকা এখন তেজস। দর্শকদের অপেক্ষা শুধু একটাই—কবে প্রথমবার সামনে থেকে দেখা যাবে নীল চোখের এই সাদা বাঘকে।






