তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ!’ ‘বড় চোরও জেলে যাবে!’ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে হুংকার শুভেন্দুর
ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন—এমন ফল হোক, যাতে তৃণমূল প্রার্থীর জামানত পর্যন্ত জব্দ হয়ে যায়
Truth of Bengal: বৃহস্পতিবার রেজিনগর, শুক্রবার নন্দীগ্রাম। উপনির্বাচনের প্রচারে এবার নিজের ছেড়ে আসা বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথকে পাশে নিয়ে বিরুলিয়ার সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। ভোটারদের কাছে তাঁর আবেদন—এমন ফল হোক, যাতে তৃণমূল প্রার্থীর জামানত পর্যন্ত জব্দ হয়ে যায়। মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূলের পাপের সীমা নেই। এমনভাবে ভোট করুন, যাতে এই ছিন্নমূলের লোকেদের প্রত্যেকের জামানত জব্দ হয়, একটারও যেন জামানত না থাকে।” প্রচারের মধ্যেই দুর্নীতি প্রসঙ্গ টেনে ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। বিজেপি সেখানে প্রার্থী করেছে শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। নিজের পুরনো কেন্দ্রের প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “নন্দীগ্রামের জয়ী প্রার্থীর সার্টিফিকেট নিতে গিয়েই বলেছিলাম, তৃণমূলের নাম-নিশান থাকবে না। পিসি-ভাইপোর শুকনো ঘাস, জোড়াফুলের চিহ্ন—কোনওটাই নেই।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপরই দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর মন্তব্য, “সুমিত রায়রা জেলে গেছে, এবার বড় চোরও জেলে যাবে।” তবে তিনি কাকে লক্ষ্য করে ‘বড় চোর’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা স্পষ্ট করে বলেননি। এদিনের প্রচারে বারবার উঠে আসে চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর প্রসঙ্গও। তাঁর মৃত্যুকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে ভোটের মাধ্যমেই তার ‘গণতান্ত্রিক জবাব’ দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “আমার সহকারী থাকার অপরাধে চন্দ্রনাথ রথকে খুনের গণতান্ত্রিক বদলা নিতে হবে আগামী ৬ তারিখ।” চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর তদন্ত চলছে এবং বিজেপি সেই ঘটনাকে নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু করেছে। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, শুভেন্দুর নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি ধরে রাখার পরীক্ষাও। নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্রে হাসিরানি রথকে বড় ব্যবধানে জেতানোর ডাক দিয়ে শুক্রবারের সভা থেকে সেই লড়াইয়ের সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।






