রাজ্যের খবর

বয়সের ভারেও অবিচল তুলির টান! পুজোর মুখে কৃষ্ণনগরের রেবা পালের নিঃসঙ্গ জীবনযুদ্ধ

৮০ বছর বয়সেও তুলির যাদু, কিন্তু পেটে খিদে! কৃষ্ণনগরের রেবা পালের করুণ গল্প শুনলে চোখের জল আটকানো দায়

মাধব দেবনাথ, নদিয়া: দুর্গাপুজো এগিয়ে আসতেই ব্যস্ততা বাড়ে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি কুমোরপাড়ার এক চিলতে ভাঙা ঘরে। টালির চালের নিচে বসে প্রায় ৮০-র কোঠায় পৌঁছনো রেবা পাল আজও নিপুণ হাতে আঁকছেন দুর্গাপ্রতিমার সাবেকি চালচিত্র। বার্ধক্য শরীরে থাবা বসালেও তুলির টানে তার ছাপ নেই।

প্রায় ৫০ বছর আগে স্বামী ষষ্ঠী পালের হাত ধরে চালচিত্র আঁকার কাজ শেখেন রেবাদেবী। প্রথমে স্বামীর সহকারী হিসেবে কাজ করলেও প্রায় ২২ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে নিজেই পুরোদমে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। একসময় কলকাতার কুমোরটুলি ও বিধাননগরের মৃৎশিল্পীদের কাছে নিজে গিয়ে চালচিত্র সরবরাহ করতেন তিনি। তাঁর আঁকা চালচিত্র শোভা পেয়েছে কালীঘাট শ্রী সংঘ-সহ এশিয়ান পেইন্টস পুরস্কার জয়ী কলকাতার একাধিক নামী পুজোমণ্ডপে। এমনকি একটি বিদ্যালয়ের উদ্যোগে তাঁর শিল্পকর্ম মিউজিয়ামেও সংরক্ষিত হয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিস্থিতি। বার্ধক্যের কারণে এখন আর দূরে যেতে পারেন না তিনি। স্থানীয় কিছু পরিচিত জায়গা ও জয়নগর থেকে সামান্য বরাত আসে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তৈরি চালচিত্রের দাপটে হাতে আঁকা শিল্পের চাহিদা কমেছে। পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিকও সামান্য, একটি চালচিত্রের জন্য মেলে মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা।

কাগজ জোড়া লাগানো থেকে রঙের প্রলেপ, সূক্ষ্ম তুলির কাজ, সবটাই একা হাতে করেন রেবা পাল। ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় জীর্ণ ঘরে একাই তাঁর বসবাস। সরকারি সাহায্য বা শিল্পী হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি না পেলেও বার্ধক্য ভাতাই তাঁর ভরসা। উত্তরসূরিরাও এই পেশায় আসতে চান না। তবু স্বামীর স্মৃতি ও শিল্পের প্রতি ভালবাসাকে আঁকড়ে ধরে আজও তুলির টানে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে চলেছেন রেবা পাল।

Related Articles