রাজ্যের খবর

ফি-বছর জলযন্ত্রণার দিন ফুরোচ্ছে! কতদিনের মধ্যে শেষ হবে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

কংক্রিটের বাঁধে মুড়বে শিলাবতী-কংসাবতী! কাঁচা বাড়ির মালিকরা পাবেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, নবান্নের ঐতিহাসিক উদ্যোগ

Truth of Bengal: দশকের পর দশক ধরে বর্ষার মরশুম এলেই প্লাবনের করাল গ্রাসে তলিয়ে যাওয়া ঘাটালবাসীকে চিরতরে বন্যা ও জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহ গ্রামে এক জনসভায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ (Ghatal Master Plan) দ্রুত বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী বছরের জুনের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার সিংহভাগ কাজ শেষ হয়ে যাবে। এদিন সভায় যোগ দেওয়ার পূর্বে আকাশপথে (Aerial Survey) পুরো প্লাবিত ঘাটাল অঞ্চল নিজে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঞ্চ থেকে বিগত তৃণমূল জমানার চূড়ান্ত ব্যর্থতা ও উদাসীনতাকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অতীতে পিসিমণির আমলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান স্রেফ রাজনৈতিক ভাষণ ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কাদা-ছোড়াছুড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কিন্তু আমাদের সরকার জনকল্যাণে বিশ্বাসী। এবার কেন্দ্রীয় সরকার ৫০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকার ৫০ শতাংশ অর্থ দেবে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকেও বড় অঙ্কের সহায়তা মিলবে। নবান্নের তরফে এই প্রকল্পের জন্য এক লপ্তে ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হল। ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে গিয়েছে।”

উল্লেখ্য, ঘাটাল মূলত শিলাবতী, কংসাবতী ও দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির অববাহিকায় অবস্থিত। ঔপনিবেশিক জমানার পুরনো ভঙ্গুর জমিদারি বাঁধ এবং নদীবক্ষে পলি জমার কারণে প্রতি বছর প্লাবনে সর্বস্বান্ত হতে হয় স্থানীয়দের। পূর্বতন সরকার এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। তবে ছাব্বিশের পরিবর্তনের পর ডবল-ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাসপুর ও ঘাটালের স্থানীয় বিধায়কদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, “পুজোর পরপরই পুরোদমে ড্রেজিং ও শক্তপোক্ত বাঁধ নির্মাণের কাজ চালু করতে হবে, যাতে আগামী বছর থেকে আর কাউকে ঘরছাঁড়া হতে না হয়।” এর পাশাপাশি গঙ্গাপাড় ও নদীর অববাহিকায় ভাঙনকবলিত কাঁচা বাড়ির তালিকা তৈরির কড়া নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্থায়ী পাকা বাড়ি তৈরির জন্য সরকার অবিলম্বে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আনন্দের হাওয়া পুরো ঘাটালজুড়ে।

Related Articles