‘মমতার এপাং-ওপাং-ঝপাং নয়, বিদ্যাসাগরের বই কিনুন’, বীরসিংহ গ্রামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বীরসিংহ গ্রামকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান! পর্যটক ও গবেষকদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল কটেজ
Truth of Bengal: বিগত তৃণমূল জমানায় নিয়ম করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত সমস্ত কবিতার বই ও রচনা রাজ্যের বিদ্যালয় ও সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রাজ্যে বিজেপির হাত ধরে পালাবদলের পর সেই সংস্কৃতিতে ইতি টানা শুরু হয়েছে। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের ঐতিহাসিক বীরসিংহ গ্রামে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতিধন্য জন্মভিটে সফরকালে রাজ্যের সমস্ত গ্রন্থাগারে বিদ্যাসাগরের কালজয়ী সাহিত্য ও জ্ঞানগর্ভ বইপত্র রাখা বাধ্যতামূলক করার কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এদিন নবজাগরণের অগ্রদূত পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতে দাঁড়িয়ে প্রণীতি ও শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবেক তৃণমূল সরকারের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিরোধী মনোভাবকে তীব্র বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের পিসিমণির আমলে ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অপাঠ্য বই জোর করে স্কুল ও সরকারি লাইব্রেরিতে গুজে দেওয়া হত। যেসব বইয়ের কোনও গুণগত বা শিক্ষণীয় মান ছিল না, সেগুলিকে সরকারি টাকায় কেনাতে বাধ্য করা হত। আমরা ক্ষমতায় এসেই সেই সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি।”
এর পরেই রাজ্যের গ্রন্থাগার ও শিক্ষা দফতরকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “এখন থেকে রাজ্যের ছোট-বড় সমস্ত পাঠাগারে মনীষী পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা বর্ণপরিচয়, কথামালা, চরিতাবলী-সহ সমস্ত আদর্শ পাঠ্যবই রাখা বাধ্যতামূলক। নতুন প্রজন্ম যাতে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত সংস্কৃতি, নীতি-নৈতিকতা ও বিদ্যার আলোর স্পর্শ পায়, সেটাই আমাদের ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের আসল লক্ষ্য। কোনও ব্যক্তির আত্মপ্রচার নয়, লাইব্রেরিতে ঠাঁই পাবে মনীষীদের সৃষ্টি।”
নবজাগরণের পুরোধা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শুভ জন্মতিথিতে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী বীরসিংহ গ্রামে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঐতিহাসিক এই গ্রামে পদার্পণ করেই মহাপুরুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করার পাশাপাশি গ্রামটিকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে মেগা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গেই সাবেক তৃণমূল সরকারের চরম উদাসীনতা ও অপশাসনকে এক হাত নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেকে এতদিন স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলেও আদতে কোনো উন্নয়নই করা হয়নি।
বীরসিংহের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিগত তৃণমূল জমানার কড়া সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের পিসিমণির আমলে বিদ্যাসাগরের গ্রামকে নিয়ে শুধু বড় বড় কথা আর ফাঁকা ভাষণবাজিই দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে এখানে কোনো কাজই হয়নি। বিদ্যাসাগরের মতো প্রাতঃস্মরণীয় মনীষীর জন্মস্থানকে দীর্ঘদিন অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছিল। আমরা সেই বঞ্চনার মানসিকতা বদলে বীরসিংহকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার মহাযজ্ঞ শুরু করছি।”
এদিন গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়নে কোটি টাকার মেগা আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গ্রামের বড় পুষ্করিণীর পাড় বাঁধাই ও সৌন্দর্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করতে ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বীরসিংহ হেলথ সেন্টারের আমূল সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা হবে। সমগ্র গ্রামে সার্বক্ষণিক পরিবেশবান্ধব আলো নিশ্চিত করতে বসানো হবে সোলার লাইট।
পর্যটন ও গবেষণাকে পাখির চোখ করে নবান্নের নতুন কর্মপরিকল্পনা পেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, “বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানকে সারা দেশের গবেষক ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ লাইব্রেরি ও একটি আন্তর্জাতিক মানের মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে যাঁরা বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও জীবন নিয়ে গবেষণা করবেন, তাঁদের এবং সাধারণ পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য মনোরম কটেজ নির্মাণ করা হবে।” শুভেন্দু অধিকারীর এই রূপকল্পের ফলে বীরসিংহ গ্রাম যে অচিরেই জাতীয় পর্যটন মানচিত্রে জ্বলজ্বল করবে, তা বলাই বাহুল্য।






