কলকাতা

দুর্গাপুজোর পাস ছাপিয়ে কোটি কোটি টাকা তছরুপ? ইডির মুখোমুখি তৃণমূলের প্রাক্তন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী

দুর্গাপুজোর ‘পাস’ বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে

Truth of Bengal: ইডির তলবে বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে, বেলা ১১টা নাগাদ তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন। দুর্গাপুজোর ‘পাস’ বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়। অভিযোগ, ওই সংগঠন নিজেদের ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দুর্গাপুজোর প্রচার এবং পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি শুরু করে। ইডির দাবি, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে চড়া দামে যে এন্ট্রি পাস বা টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল, তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, পুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং বিশেষ পরিক্রমার নামে এই পাস বিক্রির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। ইডির অনুমান, টাকার অঙ্ক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। ঘটনার সূত্রপাত জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ থেকে। তাঁর দাবি, পুজোর পাস বিক্রির নামে প্রতারণা করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আর্থিক লেনদেনের দিক খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডি। যদিও শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্দ্রনীল সেন।মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডির বিভিন্ন দল। ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ির পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তর পঞ্চসায়রের বাড়িতেও তল্লাশি হয়। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন ছিল।

সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়িতেও পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। আর্থিক লেনদেনের উৎস, পাস বিক্রির অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি। এরপরই ইন্দ্রনীল সেনকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়। সেই তলব মেনেই বুধবার তিনি ইডি দফতরে হাজির হন। এখন তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রি, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইতে পারেন।

Related Articles