দেশ

জ্ঞানেশকে হটাতে ফের উত্তপ্ত হওয়ার মুখে সংসদ, ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনছে গোটা বিরোধী জোট!

সিইসির অপসারণে আইনি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিচ্ছেন রাহুল-মমতা-কেজরিওয়ালরা!

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও চরম দুর্নীতির বিতর্ক প্রকাশ্যে আসতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পতন ঘটাতে সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমে পড়ল ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির। দেশের নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার অভিযোগে সিইসি-র অপসারণের দাবিতে সংসদের আসন্ন অধিবেশনে ফের একযোগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (Impeachment Motion) আনার সলতে পাকানো শুরু করল ইন্ডিয়া জোট। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, লোকসভা ও রাজ্যসভা, উভয় কক্ষেই যাতে পৃথকভাবে সুনির্দিষ্ট নোটিস জারি করা যায়, তার জন্য ইতিমধ্যে শীর্ষ আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ইমপিচমেন্ট নোটিসের খসড়া তৈরির কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিইসি-কে সরাতে সংসদে প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধীরা, যদিও তৎকালীন আইনি জটিলতায় তা খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি দেশীয় এক সংবাদমাধ্যমের অন্তর্তদন্তে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সাঁধুর তীব্র বিরোধিতা ও লিখিত আপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একক ক্ষমতাবলে একনায়কতন্ত্র চালিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের ভেতরের এই মারাত্মক টানাপোড়েন ও সংঘাতের খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও রাহুল গান্ধীর মতো শীর্ষ বিরোধী নেতারা।

একদিকে যখন সংসদে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নেমে বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সশরীরে গিয়ে লিখিত ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মহুয়া ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার একজন ক্রিমিনাল! অপর দুই কমিশনার সুখবীর সিং সাঁধু এবং বিবেক জোশীকে অবজ্ঞা করে তিনি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কাজ করেছেন।”

একইসঙ্গে রাজ্যসভার তৃণমূল দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনও বিরোধীদের একজোট হয়ে এই লড়াই সুসংগঠিত করার ডাক দিয়ে কড়া বিবৃতি জারি করেছেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো উচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীকে সরাতে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করতে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত সম্মতি প্রয়োজন হয়। এই মুহূর্তে বিরোধী শিবিরের এই মেগা কৌশল সংসদে পেশ হলে শেষ পর্যন্ত রাজকীয়ভাবে গৃহীত হয় নাকি খারিজ হয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

Related Articles