রাজ্যের খবর

১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ থেকে নতুন এয়ারপোর্ট! পুরুলিয়ায় এবার ডিফেন্স হাব তৈরির ঘোষণা শুভেন্দুর

জৈন পুরাকীর্তি থেকে ফরেস্ট ট্যুরিজম, দেউলঘাটা-পাকবিড়রাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র বানানোর মাস্টারপ্ল্যান!

Truth of Bengal: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে ভাগ্য বদলাতে চলেছে লালমাটির জেলা পুরুলিয়ার। বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও ঝুলন্ত প্রতিশ্রুতি কাটিয়ে এবার খরা কাটার মুখে জঙ্গলমহলের শিল্পায়ন। জেলায় ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সরঞ্জাম উৎপাদন কারখানা, সিমেন্ট ও ভারী স্টিল শিল্পের জন্য নতুন করে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঐতিহাসিক পথ প্রশস্ত হয়েছে। রবিবার পুরুলিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনার পর সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পরিবেশ রক্ষা করেই জেলাকে দেশের অন্যতম সেরা শিল্প ও পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন, “শিল্পের জন্য একটিও পাহাড় বা গাছ কাটা হবে না; প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখেই অগ্রগতি হবে।”

শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি করতে যে কোনো রাজ্যের মূল ভিত্তি হল আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই লক্ষ্যেই পুরুলিয়া শহরের ছররায় বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে, যার জন্য আগেই ২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সঙ্গে এই নিয়ে এক ঐতিহাসিক ‘মউ’ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। ছররার পাশাপাশি বালুরঘাট, কলাইকুন্ডা ও হাসিমারা বিমানবন্দরের জন্যও একই দিনে চুক্তি সাক্ষর হবে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুততম সময়ে পরিকাঠামো তৈরি করে পুরুলিয়ার বুকে বিমান নামানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

শিল্পের পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রেও বিপ্লব আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। জঙ্গলমহলে এই প্রথমবারের মতো ৩৬০০ একরের বেশি সংরক্ষিত জমি নিয়ে নতুন ব্যাঘ্র ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তৈরির সরকারি অনুমোদন মিলেছে। পুরুলিয়ার কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি ও নোয়াহাতু বিট এবং ঝালদার কলমা বিট জুড়ে এই অভয়ারণ্য গড়ে উঠবে। বিশেষত্ব হল, এর জন্য কোনও সাধারণ মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হবেন না; মানুষ ও বন্যপ্রাণীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখেই এই জঙ্গল প্রকল্প পরিচালিত হবে। এছাড়া উত্তরবঙ্গ থেকে পুরুলিয়ার মিনি চিড়িয়াখানায় আনা হচ্ছে চিতাবাঘ (Leopard)।

বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ‘ফরেস্ট ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সঙ্গে ‘রিলিজিয়াস ট্যুরিজম’-এও বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। পুরুলিয়ায় ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন জৈন পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক দেউলঘাট, রঘুনাথপুরের তেলকুপি, বান্দা এবং পুঞ্চার পাকবিড়রাকে বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাজিয়ে তোলা হবে। জঙ্গল চিরে নতুন ট্রেকিং রুট তৈরি ও বনদপ্তরের পুরনো গেস্ট হাউসগুলিকে নতুন রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। পুরুলিয়ায় পুলিশ প্রশাসন ও নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে অতিরিক্ত থানা গঠনের সিদ্ধান্তও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা জঙ্গলমহলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানচিত্রকে আমূল বদলে দেবে।

Related Articles