মমতার প্রার্থী সোজা হাজির মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে! নন্দীগ্রামে ভোটের আগেই মহানাটক
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই চমক! অখিল গিরির হাত ধরে ফর্ম তোলা সঞ্চিতা হঠাৎ নবান্নে কেন?
Truth of Bengal: আসল তৃণমূল কংগ্রেস কোন পক্ষ, কালীঘাট নাকি ঋতব্রত শিবির, সেই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই বৃহস্পতিবার রাতে জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার দুই পক্ষের প্রার্থীরা কোন নতুন নামে এবং কোন নতুন প্রতীকে আসন্ন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা চূড়ান্ত করে দিয়েছে কমিশন। কিন্তু প্রতীক বিভ্রাটের এই নাটকীয় আবহেই শুক্রবার দুপুরে আচমকা রাজ্য প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে এক অভূতপূর্ব মোড় নিল বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী হওয়া সঞ্চিতা প্রধান দে সোজা পৌঁছে গেলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরের দরজায়!
শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ১টা নাগাদ নবান্নে প্রবেশ করেন সঞ্চিতা। এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বন্ধ দরজায় দীর্ঘক্ষণ তাঁর একান্তে কথাবার্তা হয়। উল্লেখ্য, তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রামে বর্ষীয়ান নেতা অখিল গিরিকে পাশে রেখেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন সঞ্চিতা। আগামী শনিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা। আর ঠিক তার আগের দিনই মমতা শিবিরের ঘোষিত প্রার্থীর সোজা নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষে বৈঠক করার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জল্পনা ছড়িয়েছে, তবে কি শনিবারের আগেই নন্দীগ্রামের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সঞ্চিতা? এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।
অন্যদিকে, দলীয় প্রার্থীর এহেন নবান্ন যাত্রা নিয়ে কালীঘাট শিবিরের অস্বস্তি কিন্তু গোপন থাকেনি। ঘটনার খবর ছড়াতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি খোলাখুলি দুটি সম্ভাব্য কারণের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘‘প্রথমত, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাপ উনি সম্ভবত শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে পারেননি। দ্বিতীয়ত, নন্দীগ্রামে আমাদের দলীয় সংগঠন যথেষ্ট দুর্বল। স্থানীয় নেতৃত্বেরও ওনার ওপর যতটা নজরদারি বা আগলে রাখার প্রয়োজন ছিল, তা ঠিকমতো হয়নি।’’
জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর এমনিতেই দুই শিবিরের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রতীক নিয়ে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। তার ওপর নন্দীগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হঠাৎ সাক্ষাৎ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও প্রশাসনিক চালচিত্রকে ফের একবার প্রকাশ্যে এনে দিল। এখন শনিবারের নির্ধারিত সময়ে সঞ্চিতা প্রধান দে তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন কি না, নাকি ভোটের জল অন্য কোনও দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছে সমস্ত রাজনৈতিক মহল।





