বালির ঘাটে ব্যবসায়ীর থেকে তোলাবাজির অভিযোগ! বিজেপি নেতাকে গাছে বাঁধল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা
পূর্ব বর্ধমানে তোলা তুলতে গিয়ে গণধোলাই ও পুলিশের জালে পদ্ম নেতা!
Truth of Bengal: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, প্রশাসন ও রাজনীতিতে কোনও ধরনের তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের সেই কড়া হুঁশিয়ারিকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে এবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে বালি ব্যবসায়ীর কাছে লক্ষাধিক টাকার তোলা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠল খোদ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে! ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় জামালপুরের চৌবেড়িয়া এলাকায়। তোলা তুলতে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা পড়লেন সংশ্লিষ্ট বিজেপি নেতা ও তাঁর অনুগামীরা।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গভীর রাতে। বর্ষার সরকারি নিয়ম মেনে নদী থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ থাকায় চৌবেড়িয়ার নির্দিষ্ট স্টক পয়েন্টে মজুদ বালি ট্রাক্টরে লোড করছিলেন ইজারাদার সৈয়দ নিয়াজুদ্দিনের কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময়েই সেখানে দলবল নিয়ে চড়াও হন বিজেপির জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বসন্ত পাঁজা। বালি লোডিং বন্ধ করার হুমকি দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার তোলা দাবি করেন তিনি। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করায় ইজারাদারের কর্মীদের সঙ্গে ওই বিজেপি নেতার বচসা ও হট্টগোল শুরু হয়।
গভীর রাতে চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আশপাশের গ্রামবাসীরা। পুরো বিষয়টি জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পালানোর চেষ্টা করলেও বসন্ত পাঁজা-সহ চারজনকে ধরে ফেলে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখেন গ্রামবাসীরা। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। খবর পেয়ে জামালপুরের বিজেপি বিধায়ক অরুণ হালদারের নির্দেশে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামালপুর থানার পুলিশ। পুলিশ গিয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ওই চার অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় আটক করে নিয়ে যায়।
ঘটনার দায় এড়িয়ে জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল স্পষ্ট জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি আমরা দেখেছি। আমাদের দলপতি শমীক ভট্টাচার্য ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছেন তোলাবাজদের কোনো স্থান নেই। এই অপকর্মের বিষয়টি আমরা শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি। আইন মেনে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিক, দল ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ করবে।” অন্যদিকে ইজারাদার জানান, বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসন তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করায় বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তাঁরা। আপাতত এই তোলাবাজির ঘটনায় জামালপুরের রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।






