জলপাইগুড়ির স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধর পড়ুয়াদের! তদন্তে নামল স্কুলশিক্ষা দফতর
হেডমাস্টারের মাথা ফাটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল ছাত্ররা! ঘটনার নেপথ্যে বিস্ফোরক সত্য জানতে স্কুলে নামল ডিআই টিম
Truth of Bengal: শিক্ষক দিবসের বিশেষ খাওয়াদাওয়াকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধর ও স্কুলে চরম ভাঙচুরের নজিরবিহীন লজ্জাজনক ঘটনায় অবশেষে চরম কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তর। রক্তাক্ত অবস্থায় জখম প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুই বর্তমানে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার জেরে তীব্র ধিক্কারের ঝড় ওঠার পরেই বুধবার নড়েচড়ে বসেছে নবান্নের শিক্ষা প্রশাসন। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা সচিব বিনোদ কুমারের নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠন করে সরজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের স্পষ্ট গাইডলাইন মেনে জলপাইগুড়ির জেলা স্কুল পরিদর্শক (DI) সুজিত সরকারের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পৌঁছায়। পরিদর্শক দল টিচার্স রুমে গিয়ে সহ-শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাদাভাবে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষককে ঠেলে ফেলে মারধর করার আগে ঠিক কী ধরণের বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, ছাত্রদের কোনও সুনির্দিষ্ট ক্ষোভ ছিল কি না এবং কেন এই হিংসাত্মক ঘটনা আটকানো সম্ভব হয়নি, তা নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করা হয়। শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, সমস্ত ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি। জানা গিয়েছে, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, কয়েকজন ছাত্র খাবারের ঘরে উঁকি দিলে প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুই তাঁদের চরম মারধর করেন। এই ঘটনার জেরে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং পালটা প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। নিমেষের মধ্যে স্কুলের চেয়ার-টেবিল ভেঙে চরম তাণ্ডব চালায় বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করায় তাঁর মাথা ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুইয়ের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও স্বৈরাচারী আচরণ ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন সহ-শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্ররা। প্রধান শিক্ষকের পূর্ব আচরণের সঙ্গে এই হিংসার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পরিদর্শক দল। পরিদর্শক টিমের এই মেগা তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষা দপ্তর দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।






