রাজ্যের খবর

ডেঙ্গু রুখতে অগ্নিমিত্রার কড়া বার্তা! ‘বাড়িতে জল জমলে বিপদ’, ৮২-৮৩-৮৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ নজর

"হাসপাতাল থেকে কেউ বাড়ি ফিরলেই নজরদারি!", আসানসোলকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার কড়া নির্দেশ

উজ্জ্বল দাশগুপ্ত, পশ্চিম বর্ধমান: ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। স্বচ্ছতা সংকল্প অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতা মিছিলে পা মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন তিনি। মন্ত্রীর বার্তা, ডেঙ্গু রুখতে শুধু প্রশাসন নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। বাড়ির আশপাশে এক ফোঁটা জলও জমতে দেওয়া যাবে না।

আসানসোল পুরনিগমের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার এই সচেতনতা মিছিলের আয়োজন করা হয়। আসানসোল গ্রাম সংলগ্ন রামসায়ের ময়দান থেকে মহীশীলা পর্যন্ত মিছিলে পুরোভাগে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। মিছিল চলাকালীন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করেন তিনি।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের পৌর কমিশনার দিলীপ মিশ্র, বন দফতর ও দমকল, পুলিশ আধিকারিকরা। পাশাপাশি পুরসভার সাফাই কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, নির্মল বন্ধু, নির্মল সাথী এবং ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মীরাও মিছিলে অংশ নেন।

এদিন অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বর্তমানে আসানসোলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কোন এলাকা বা ওয়ার্ড থেকে আক্রান্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে, তা ম্যাপিং করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ থেকে ৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

বিশেষ করে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার ৮২, ৮৩ ও ৮৪ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ওই এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। আক্রান্ত কেউ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলে কিংবা কোনও এলাকায় জ্বরের খবর পাওয়া গেলে সেখানে আরও জোরদার নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মশারি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বাড়ির ড্রাম, টব, ফ্রিজের পিছনের অংশ, নির্মাণাধীন এলাকা কিংবা অন্য কোনও জায়গায় যাতে জল জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জমে থাকা জল মশার বংশবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই সামান্য অসচেতনতাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

‘ডেঙ্গুমুক্ত আসানসোল, ডেঙ্গুমুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’, এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

Related Articles