আন্তর্জাতিক

মানস সরোবর দর্শনে গিয়ে মহা বিপদ! নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয় পর্যটক

জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের বড় অংশই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন

Truth of Bengal: নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে খোঁজ মিলছে না শতাধিক ভারতীয় পর্যটকের। বুধবার সকালে ভোটে কোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান নামার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নেপাল পর্যটন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং অন্তত ১৪১ জন ভারতীয়। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের বড় অংশই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। বুধবার নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের দিকে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু রাসুয়া এলাকায় ধস এবং হড়পা বানের জেরে একাধিক রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকেই পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

কাঠমান্ডুর একটি পর্যটন সংস্থার আধিকারিক বাশুকুমার অধিকারী জানিয়েছেন, ৯৩ জন নেপালি-সহ প্রায় ৪০০ পর্যটকের এদিন সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিপর্যয়ের পর দুপুর পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। রাসুয়াগড়ি সীমান্ত এলাকার কাছে তিনটি আলাদা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে ভারতীয় পর্যটকেরা যাত্রা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি দলে ছিলেন ৫৯ জন, অন্য একটি দলে ৪৬ জন ভারতীয়। তৃতীয় দলটিতে ছিলেন ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। শুধু ভারতীয় নয়, আরও একাধিক দেশের পর্যটকেরও খোঁজ নেই। নিখোঁজদের মধ্যে মালয়েশিয়ার ১৭ জন, ব্রিটেনের ১২ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার চারজন, আমেরিকার তিনজন, অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের একজন করে পর্যটক রয়েছেন। আরও ১১১ জন বিদেশি কোন দেশের নাগরিক, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

হড়পা বানের জেরে রাসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একাধিক রাস্তা ধসে পড়েছে, সেতু ভেঙেছে, ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি ও যানবাহন। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে দুর্গম এলাকায় পৌঁছনোও কঠিন হয়ে পড়েছে।নেপালের ট্রেকিং সংস্থাগুলির সংগঠনের সভাপতি সাগর পাণ্ডে জানিয়েছেন, নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান জানতে সবরকম চেষ্টা চলছে। মোবাইল এবং স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিপর্যয় নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৮ সালের মলপা ধসের ভয়াবহ স্মৃতি। সে বছর উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ের মলপা গ্রামে ধসে ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৬০ জন ছিলেন কৈলাস-মানস সরোবরগামী পুণ্যার্থী। এবারও একই যাত্রাপথে শতাধিক ভারতীয়ের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Related Articles