কলকাতা

কলকাতার নামী স্কুলে হাড়হিম কাণ্ড! টয়লেটে একরত্তি ছাত্রীকে কামড়াল সাপ

সাপে কামড়ানোর পরেও ছাত্রীকে লুকিয়ে বাড়ি পাঠাল স্কুল কর্তৃপক্ষ! অভিভাবকরা চেপে ধরতেই ফাঁস হল ভয়ঙ্কর সত্য

Truth of Bengal: দক্ষিণ কলকাতার একটি অত্যন্ত নামকরা এবং অভিজাত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ঘটে গেল এক লোমহর্ষক ঘটনা। স্কুলের শৌচাগারে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের ছোবলের শিকার হল তৃতীয় শ্রেণির একরত্তি ছাত্রী। মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবক মহলে। যদিও চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা গিয়েছে সাপটি নির্বিষ ছিল এবং শিশুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত, তবুও এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে গেছে।

ঘটনার দিন দুপুরবেলা ওই ছাত্রী স্কুলের শৌচাগারে প্রবেশ করলে আচমকাই অন্ধকারে এক দেড় ফুট লম্বা সাপ তার পায়ে ছোবল মারে। গায়ের রঙ সাদার ওপর হলুদ ছোপযুক্ত ওই সাপটিকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এতবড় একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়। ছাত্রীকে হাসপাতালে না নিয়ে স্কুলের নিজস্ব ছোটখাটো চিকিৎসালয়ে সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েই দায় সেরে ফেলা হয় এবং তার অভিভাবকের কাছে ছাত্রীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাড়ি ফিরে আসার পর শিশুটির পা ফুলে উঠলে এবং যন্ত্রণায় সে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিভাবকরা পায়ে কামড়ের দাগ দেখতে পান। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে কড়া চাপ সৃষ্টি করতেই আসল সত্যিটা প্রকাশ্যে আসে। সময় নষ্ট না করে তড়িঘড়ি ওই ছাত্রীকে আনন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এবং জানান যে সাপটি বিষধর ছিল না, তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল। বর্তমানে ওই ছাত্রী চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

অভিজাত এই স্কুলের বিশাল ও ঝা-চকচকে ক্যাম্পাসের ভেতরে কীভাবে একটি সাপ প্রবেশ করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্ষুব্ধ পরিবার ও সাধারণ মানুষ। স্কুলের চারপাশের পরিবেশ খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, এই প্রকাণ্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঠিক বাইরেই রয়েছে একটি বড় জলাশয়। এর আগেও বহুবার ওই জলাশয় ও সংলগ্ন এলাকা থেকে সাপ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে পড়ুয়ারা। বারবার এহেন অভিযোগ ওঠার পরেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন আগে থেকে কোনও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা পেস্ট কন্ট্রোলের উদ্যোগ নিল না, তা নিয়েই এখন দানা বাঁধছে তীব্র বিতর্ক। ঘটনার পর থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মুখে কুলুপ এঁটে কোনও সদুত্তর না দেওয়ায় ক্ষোভের আগুন আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়েছে।

Related Articles