জনগণনার কাজেও ব্যাহত হবে না পঠনপাঠন! শিক্ষাসূচিতে শিক্ষকদের দক্ষতা নিয়ে বড় দাবি শিক্ষামন্ত্রীর
স্কুলের কাজ এবং জনগণনার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়
Truth of Bengal: সেনসাসের দায়িত্বে শিক্ষকদের নিয়োগ করা হলেও তার প্রভাব স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনে পড়বে না বলে আশ্বাস দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। তাঁর দাবি, রাজ্যের শিক্ষকরা যথেষ্ট দক্ষ এবং তাঁরা স্কুলের কাজের পাশাপাশি জনগণনার দায়িত্বও সামলে নিতে পারবেন। সোমবার সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে ‘পরখ সেল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেনসাসের কাজে যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা যথেষ্ট সক্ষম। ফলে স্কুলের কাজ এবং জনগণনার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এদিকে সেনসাস ডিরেক্টর নিখিল পবন কল্যাণ জানিয়েছেন, জনগণনার এই কাজ মূলত সাম্মানিকভিত্তিক দায়িত্ব। তবে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক বা পুর কমিশনাররা কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন আনুমানিক পাঁচ থেকে দশটি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব। স্কুল ছুটির পরে বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এই দায়িত্ব পালন করতে হলেও মাঠপর্যায়ের কাজ দু’ঘণ্টার বেশি হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি। শিক্ষকদের সেনসাসের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেই আবহে শিক্ষামন্ত্রী এবং সেনসাস অধিকর্তার বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন যাতে কোনওভাবে ব্যাহত না হয়, সে জন্য শিক্ষা দপ্তরের তরফে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, শিক্ষকদের স্কুলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরে অথবা সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে সেনসাসের কাজ করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, স্কুলের দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনসাসের কাজ চাপিয়ে দিলে শিক্ষকদের মানসিক এবং শারীরিক চাপ বাড়বে। তার প্রভাব পরোক্ষভাবে স্কুলের পরিবেশ এবং পঠনপাঠনের উপর পড়তে পারে।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তাঁদের দাবি, সম্ভব হলে শিক্ষকদের সেনসাসের দায়িত্ব থেকে বাদ দিতে হবে। আর যদি শিক্ষকেদের এই কাজে নিযুক্ত করতেই হয়, তাহলে তাঁদের ‘অন ডিউটি’ স্টেটাস দিতে হবে। কিংকর অধিকারীর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বিডিও ইতিমধ্যেই ‘অন ডিউটি’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন, কিন্তু রাজ্যস্তরে এখনও পর্যন্ত একক কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। ফলে সেনসাসের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষক মহলের উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।




