রাজ্যের খবর

“রাত ১২টা পর্যন্ত হাসিমুখে আড্ডা দিলেন”, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিণতিতে স্তব্ধ পরিবার

আশিসবাবুর ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় অত্যন্ত বাকরুদ্ধ।

Truth of Bengal: প্রতি রাতের মতো শনিবারও পরিচিত ও স্বজনদের সঙ্গে মেতে উঠেছিলেন আড্ডায়। রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত নিজের ভাই ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে গল্প করেন। তাই রবিবার সকালে তাঁর আত্মহত্যার খবর পরিবার থেকে শুরু করে অনুগামীদের কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। পরিবারের দাবি, রাতে তাঁর আচরণ বা মুখে সামান্যতম অস্বাভাবিকতার ছাপও ছিল না। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও হাসিমুখেই তিনি রাতে খাওয়া-দাওয়া করতে নিজের ঘরে যান এবং দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে সকালে বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের দরজার ফাঁক দিয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।

আশিসবাবুর ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় অত্যন্ত বাকরুদ্ধ। তিনি জানান যে, মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁরা সকলে একসঙ্গে গল্প করার পর আশিসবাবু নিজেই উঠে খেতে যান। সকালে এই অনভিপ্রেত দৃশ্যের মুখোমুখি হবেন তা কল্পনাও করেননি কেউ। এলাকার বাসিন্দাদের মতে, স্বাধীনতা দিবসেও তিনি অত্যন্ত সচল ছিলেন এবং নিজে হাতে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, গত নির্বাচনে পরাজয় এবং রাজনীতিতে তৈরি হওয়া নানা অপমান থেকে হয়তো এক গভীর আত্মসম্মানবোধ ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ শিক্ষক ও নেতা।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সততা নিয়ে বিরোধীদের মনেও কোনো দ্বিধা ছিল না। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করা বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন এবং এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। এনসিপিআই সাংসদ অসিত মাল, তৃণমূল নেতা ত্রিদিব ভট্টাচার্য এবং স্থানীয় কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্ব একসুরে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আশিসবাবুর সততা ছিল প্রশ্নাতীত। পুলিশ ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে এবং ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।