লকআপে বসে ‘আদা চা-ঘুগনি’র আবদার! হেলমেট পরেও ডিম-কিল-লাথি ঠেকাতে পারলেন না নির্মল
ওড়িশায় আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হলো না! খড়দহ থানার বাইরে চরম গণপিটুনি ও ডিম হামলা প্রাক্তন বিধায়ককে!
Truth of Bengal: অভয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হতেই খড়দহ এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে অকাল উৎসবের মেজাজ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এই কাণ্ডের প্রকৃত অপরাধী পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। সময় গড়ালেই খড়দহ থানার সামনে ভিড় জমায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। আনন্দ প্রকাশ করতে অনেককে ডিজে বাজিয়ে নাচতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি যে বেগতিক হতে পারে, তা আগেভাগেই আঁচ করেছিল পুলিশ প্রশাসন। সেই কারণেই থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় নির্মল ঘোষের মাথায় শক্ত হেলমেট ও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলেও ক্ষুব্ধ জনতার রোষ এড়ানো যায়নি। ডিম বর্ষণ থেকে শুরু করে কিল-চড়-লাথির মুখোমুখি হতে হয় অভিযুক্ত এই প্রাক্তন বিধায়ককে।
অথচ গ্রেফতারির পর খড়দহ থানার লকআপে বসে খাবারের জন্য একাধিক আবদার ছুড়ে দিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ। পুলিশ সূত্রে খবর, লকআপে বন্দি থাকা অবস্থায় ক্যান্টিনের এক কর্মীকে দেখে তিনি বিশেষ আদা দেওয়া দুধ-চা পানের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রাক্তন বিধায়কের সেই আবদার মেটানোও হয়। পরবর্তীতে সকালে যখন তাঁর পুত্রবধূ দীপান্বিতা ঘোষ সাক্ষাৎ করতে আসেন, সেই সময় টিফিনে ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট ও ঘুগনির ব্যবস্থা করা হয় তাঁর জন্য। টিফিন শেষেই তাঁকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে পেশ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটির মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার পুনর্তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রাতে শ্মশানঘাটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই অভয়ার বাবা খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান এবং তার ঠিক দু’দিনের মাথায় ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হয় নির্মল ঘোষকে।
পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ওড়িশার বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন নির্মল। নজরদারি এড়াতে নিজের পুরোনো ফোন ও নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজ্য পুলিশ তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে সিমুলিয়া পুলিশের সহায়তায় ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে। ওড়িশা আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে খড়দহে আনা হয়েছে এবং তাঁর ব্যবহৃত গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।





