রাতে দীর্ঘক্ষণ মিলছিল না খোঁজ, দরজা খুলতেই রক্তে ভেজা দেহ! দমদমে যুবতীকে নৃশংসে খুনের অভিযোগ
ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দমদম থানার পুলিশ
Truth of Bengal: দমদম ক্যান্টনমেন্টে ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবতীর রক্তাক্ত দেহ। বুধবার গভীর রাতে সাউথ সুভাষনগরের আদ্যা মা গলির একটি একতলা বাড়ি থেকে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করা হতে পারে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দমদম থানার পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম জয়া প্রামাণিক। বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। তিন বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। কর্মসূত্রে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত ছিল জয়ার। বাইরে যাওয়ার সময় ছেলেকে শ্যামবাজারে এক পরিচিতের বাড়িতে রেখে যেতেন এবং কাজ শেষে ফেরার পথে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন।
বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় জয়ার কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিচিতরা। পরে তাঁর ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভিতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর দেওয়া হয় দমদম থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই ময়নাতদন্ত করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন জয়া। তাঁর বাড়িতে এক যুবকের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ওই যুবকের সঙ্গে জয়ার সম্পর্ক কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও টানাপড়েন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই ক্যামেরা নষ্ট করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, পরিচিত কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। যদিও পুলিশের তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।Tময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মৃতার স্বামীরও খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পুরনো বিবাদ থেকে শুরু করে অন্য কোনও কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দমদম থানা।




