কলকাতারাজ্যের খবর

পুজোয় ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছেন? দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট পাওয়ার বড় টিপস ও আপডেট

ঘুরতে যাওয়ার জায়গা ঠিক হলেও এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা একটাই—দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট মিলবে তো?

Truth of Bengal: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও বাকি দু’মাসের একটু বেশি। কিন্তু বাঙালির বেড়ানোর পরিকল্পনা যে তার অনেক আগেই শুরু হয়ে যায়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দুর্গাপুজোর কয়েক দিনের লম্বা ছুটি মানেই কারও পাহাড়, কারও সমুদ্র, আবার কারও পছন্দ জঙ্গল। কলকাতার ভিড় এড়িয়ে শহরের বাইরে কয়েকটা দিন কাটানোর পরিকল্পনাও ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছেন অনেকে। তবে ঘুরতে যাওয়ার জায়গা ঠিক হলেও এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা একটাই—দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট মিলবে তো? আগে যাত্রার ১২০ দিন আগে থেকেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটা যেত। রেলের নতুন নিয়মে সেই সময়সীমা কমে হয়েছে ৬০ দিন। ফলে এ বার পুজোর ছুটিতে যাঁরা ১৪ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বেরিয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের টিকিট বুকিংয়ের সুযোগ শুরু হতে চলেছে আর কয়েক দিনের মধ্যেই। চতুর্থী, অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর যাত্রার পরিকল্পনা থাকলে ১৫ অগস্ট সকাল ৮টা থেকেই সংশ্লিষ্ট ট্রেনের টিকিট বুক করা যাবে। পঞ্চমী, ১৫ অক্টোবর যাত্রার জন্য বুকিং খুলবে ১৬ অগস্ট সকাল ৮টায়। একই ভাবে দশমী, ২১ অক্টোবর যাঁরা বাড়ি ফিরতে চান বা নতুন কোনও গন্তব্যে রওনা দেবেন, তাঁদের টিকিট কাটার সুযোগ মিলবে ২২ অগস্ট থেকে।

এ বছর তিথি অনুযায়ী সপ্তমী পড়েছে দু’দিন—১৭ ও ১৮ অক্টোবর। ফলে পুজোর মূল কয়েকটি দিনে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা যে আকাশছোঁয়া হবে, তা বলাই বাহুল্য। অভিজ্ঞ যাত্রীদের মতে, বুকিং খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অনেক জনপ্রিয় রুটের সংরক্ষিত আসন শেষ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্ট। পুজোর সময় সেই ওয়েটিং থেকে টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনাও সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম থাকে। তবে নিয়মিত ট্রেনের টিকিট না পেলেও একেবারে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। পুজোর বাড়তি ভিড় সামাল দিতে প্রতি বছরের মতো এ বারও একাধিক স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, পুজো শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। পুজো শেষ হওয়ার পরেও অন্তত কালীপুজো পর্যন্ত সেই পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণও জানিয়েছেন, পুজোর সময় যাত্রীদের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন জনপ্রিয় গন্তব্যে স্পেশ্যাল ট্রেন চালানো হবে। পুজোর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে থেকেই সেই ট্রেনগুলি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিশেষ ট্রেনের বিস্তারিত সূচি ঘোষণা করতে পারে রেল।

তার পরেও যদি টিকিট না মেলে? তখন ভরসা তৎকাল ও প্রিমিয়াম তৎকাল। যদিও পুজোর সময় এই টিকিটের চাহিদাও থাকে তুঙ্গে। তাই বুকিং শুরু হওয়া মাত্রই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তৎকাল টিকিটে জালিয়াতি রুখতে ইতিমধ্যেই নিয়ম আরও কড়া করেছে ভারতীয় রেল। তৎকাল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে আধার যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকিট কাটার সময় আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি যাচাই হওয়ার পরেই বুকিং সম্পূর্ণ করা যাবে। যাত্রার এক দিন আগে সকাল ১০টা থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার তৎকাল টিকিট বুকিং শুরু হয়। সাধারণ শ্রেণির জন্য তৎকাল বুকিং শুরু হয় সকাল ১১টা থেকে। অনলাইন এবং অফলাইন—দু’ভাবেই তৎকাল টিকিট কাটা সম্ভব। তবে কাউন্টার থেকেও তৎকাল টিকিট কাটতে গেলে আধার সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হবে। অর্থাৎ, পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এবার আর দেরি করার সুযোগ নেই। গন্তব্য ঠিক থাকলে এখনই ক্যালেন্ডারে বুকিংয়ের তারিখ দাগিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ পুজোর মরশুমে ট্রেনের টিকিটের ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের দেরিও বদলে দিতে পারে গোটা ভ্রমণ পরিকল্পনা।

Related Articles