বাংলাদেশে হিন্দুরা চরম বিপন্ন! ‘চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই’, কলকাতা থেকেই বিস্ফোরক তসলিমা নাসরিন!
“ইউনুস হোক বা তারেক রহমান, বাংলাদেশ অন্ধকারেই রয়ে গেছে!”, স্বদেশের জন্য ব্যাকুল তসলিমার হুঙ্কার!
Truth of Bengal: স্বদেশ তাঁকে ঠাঁই দেয়নি, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিল। এ জন্মে আর নিজের জন্মভূমিতে ফিরতে পারবেন বলে বিশ্বাসও করেন না বিশ্বখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তবে দেশ ছাড়তে হলেও মাতৃভূমির প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও উদ্বেগ একটুও কমেনি। দূরে থেকেও প্রতি মুহূর্তে তাঁর চেতনায় এবং মনজুড়ে বসে রয়েছে বাংলাদেশ। মৌলবাদের করাল গ্রাসে ঢাকা পড়ে যাওয়া স্বদেশ আজ কতটা এগোল, সেই চিন্তা প্রতিনিয়ত তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। বর্তমানে তাঁর আরেক প্রিয় শহর কলকাতায় বসে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন এই লেখিকা। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে প্রগতিশীল মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠলেন তিনি।
বাংলাদেশে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র তথা হিন্দু সমাজের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সেদেশের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা চরম অনিশ্চয়তা ও বিপন্নতার মুখে পড়েন। তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের জমানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। সেই আবহেই নভেম্বর মাসে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মিথ্যা হত্যা মামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় চিন্ময় প্রভুকে। এরপর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। বারবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়েছে এবং ঘাড়ে একের পর এক নতুন মামলা চাপানো হয়েছে। বিচারের নামে এই চরম প্রহসন আন্তর্জাতিক মহলেও জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় বাংলা অ্যাকাডেমির এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও চিন্ময় প্রভুর সাজানো মামলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তসলিমা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ইউনুসের জমানা হোক বা আজকের তারেক রহমানের জমানা, বাংলাদেশ সেই অন্ধকার জায়গা থেকেই বেরোতে পারেনি। মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত এখনও একইরকম রয়ে গেছে। নারীরা আজও সেখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না, বাবার সম্পত্তিতেও তাঁদের কোনও অধিকার দেওয়া হয়নি। সংখ্যালঘু হিন্দুরা প্রতিনিয়ত নিপীড়িত হচ্ছেন এবং তাঁদের ন্যূনতম নিরাপত্তাও নেই।”
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রগতিশীল বাঙালিদের তরফ থেকে দাবি তুলে তসলিমা সোচ্চার গলায় বলেন, “যাঁরা প্রগতিশীল মানসিকতার, তাঁদের প্রত্যেকের হয়ে আমার একটাই দাবি, হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর দ্রুত মুক্তি চাই। তাঁর সঙ্গে ঘোর অন্যায় করা হয়েছে।”
এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের বহুল চর্চিত ছাত্র আন্দোলনকেও তীব্র কটাক্ষ করেন লেখিকা। হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো ওই আন্দোলনকে অনেকে মহিমান্বিত করলেও তসলিমা তা মানতে নারাজ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমার মনে হয়, সে সময় ছাত্র সমাজ আমাদের বোকা বানিয়েছিল। ওরা কেবল কোটা বাতিলের দাবি তুলেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল ওরা নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতেই পারেনি, আন্দোলন পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল।”






