রাজ্যের খবর

খাগড়াগড়ের ৪ কিমির মধ্যে ফের জঙ্গির গোপন ডেরা! বর্ধমানের অভিজাত আবাসন থেকে ধৃত হামিদ

হামিদ কাশ্মীরের ‘সাজ্জাদ ভাট’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে

Truth of Bengal: ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর খাগড়াগড় বিস্ফোরণে প্রকাশ্যে এসেছিল জঙ্গি নেটওয়ার্কের ভয়াবহ চিত্র। তার প্রায় ১২ বছর পর সেই খাগড়াগড় থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে ফের এক সন্দেহভাজন জঙ্গির গোপন ঘাঁটির সন্ধান মিলল। বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে হামিদ মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিদ কাশ্মীরের ‘সাজ্জাদ ভাট’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ ও গতিবিধি সম্পর্কে সে তথ্য সংগ্রহ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হামিদের বাড়ি হাওড়ার পিলখানা এলাকায়। সেখানে একটি গেঞ্জি কারখানায় দর্জির কাজ করত সে। একই কারখানায় তার বাবাও কর্মরত ছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ জীবনযাপন করলেও আড়ালে তার অন্য পরিচয় ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এসটিএফ। সম্প্রতি নিউ টাউনের একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেছিল হামিদ। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ওই বাড়ির কাছাকাছিই মুখ্যমন্ত্রীর বাসস্থান। মুখ্যমন্ত্রী যে রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন, সেই এলাকাতেও হামিদ রেকি করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও এই তথ্যের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।ভোটের ফল ঘোষণার পর নিউ টাউন ছেড়ে বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসনে উঠে আসে হামিদ। নেমপ্লেট অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটটির মালিক একতা মেহেরা। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে সেখানে ভাড়ায় থাকত সে।

আবাসনের এক বাসিন্দা শাশ্বতী গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, হামিদকে দেখে কখনও সন্দেহ হয়নি। প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছিল সে। হাওড়া ছেড়ে হঠাৎ বর্ধমানে কেন বসবাস শুরু করেছিল, তা অবশ্য কাউকেই স্পষ্টভাবে জানায়নি। বৃহস্পতিবার ওই আবাসনে অভিযান চালিয়ে হামিদকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফোনের কল রেকর্ড, বার্তা, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পূর্ব ভারতে নতুন সদস্য নিয়োগ ও মগজধোলাইয়ের দায়িত্ব ছিল হামিদের উপর। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের চিহ্নিত করে তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলত। বিরিয়ানি ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতা এবং ছোট ব্যবসায়ীদেরও লক্ষ্য করা হত বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্যে এই গোষ্ঠীর সদস্য ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। হামিদের যোগাযোগের জাল বাংলার আর কোথায় কোথায় বিস্তৃত ছিল, তার স্থানীয় সহযোগী কারা এবং সে কার নির্দেশে কাজ করছিল—এসব জানতে শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত।