ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই জারি! দিল্লির বুকে ফের বড় সংঘাতের ইঙ্গিত ককরোচদের
"সোমবার যা হয়েছে সেটা তো স্রেফ ট্রেলার!", নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকেও মিলল না রফা, মঙ্গলেও উত্তপ্ত দিল্লি!
Truth of Bengal: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডার হস্তক্ষেপেও মিলল না সমাধান। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার বার্তা দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার দিল্লিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেও নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবারও পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনে তাঁদের সংসদ অভিযান চলবে এবং যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
প্রশাসন অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও সোমবার সকালে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার ‘ককরোচ’ সমর্থক সংসদের অভিমুখে রওনা হন। মিছিল ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় ৫ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ, যার ফলে চরম খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। এই ঘটনায় সিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব-সহ অন্তত ৭০ জন প্রতিবাদীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
বিকেলে নাড্ডা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিবাদ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। তবে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি এ কথা জানালেও শিক্ষার্থীদের মূল দাবিদাওয়া পূরণ নিয়ে কোনও আশ্বাস দেননি। এই ঘটনার পর হাসপাতাল থেকেই আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বিশিষ্ট আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, তরুণ আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের বর্বর আচরণ দেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তরুণ নেতারা সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তাঁর লড়াই থামবে না।
সোমবার গভীর রাতে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সোমবার যা হয়েছে তা স্রেফ ট্রেলার ছিল। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” আন্দোলনকারীরা ইতিমধ্যেই যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল পুনর্বার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের এই নির্মম লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সব মিলিয়ে মঙ্গলবারও রাজধানীর রাজপথ ফের এক বড়সড় সংঘাতের সাক্ষী হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





