‘সব পেলাম, কিন্তু ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না!’, বারুইপুর কাণ্ডে সন্তানহারা পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী
সবকিছু মিললেও তাঁদের একটাই আক্ষেপ, হারানো সন্তানকে আর কোনওদিন ফিরে পাওয়া যাবে না।
Truth of Bengal: ছেলেকে হারিয়েছেন মাত্র ছ’দিন আগে। এখনও শুকোয়নি চোখের জল। বারুইপুরের ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাবা-মায়ের কাছে প্রতিটি মুহূর্ত যেন অসহনীয়। সরকারি সাহায্য, চাকরি কিংবা সামাজিক সুরক্ষা—সবকিছু মিললেও তাঁদের একটাই আক্ষেপ, হারানো সন্তানকে আর কোনওদিন ফিরে পাওয়া যাবে না। শনিবার ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্তানহারা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের তরফে একাধিক সাহায্যের ব্যবস্থা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ইন্দ্রজিতের বাবা জানান, প্রশাসনের তরফে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হয়েছে। তাঁর বড় ছেলে বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাবার বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধার ব্যবস্থাও করেছে সরকার।
চোখের জল সামলাতে সামলাতে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী টাকা গুছিয়ে রাখতে বলেছেন। বড় ছেলেকে চাকরিও দিয়েছেন। বার্ধক্যভাতা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার ব্যবস্থাও হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না।” ঘটনার দিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা যখন ইন্দ্রজিৎকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি বারবার বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শোনেনি। ইন্দ্রজিতের বাবা বলেন, “আমি বারবার বারণ করেছিলাম। কিন্তু ওরা কোনও কথা শুনল না। জোর করে ছেলেকে টেনে নিয়ে গেল। ওকে কিছু বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি।” রাজ্য সরকারের তরফে ইন্দ্রজিতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাদা বাপিকে সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। হিংসার সময় ইন্দ্রজিতের বাড়িতে যে ভাঙচুর হয়েছিল, প্রশাসনের উদ্যোগে সেই বাড়ির সংস্কারের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁর পরিবারের দায়িত্ব সরকার নেবে এবং ঘটনায় জড়িতদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। শুভেন্দু বলেন, “ইন্দ্রজিৎকে আমরা ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু তাঁর পরিবারকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। যারা এই খুনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চরম শাস্তি হবে।” সরকারি সাহায্য হাতে এলেও ইন্দ্রজিতের বাবা-মায়ের বুকের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। তাঁদের এখন একটাই দাবি—নির্দোষ ছেলেকে যাঁরা নির্মমভাবে কেড়ে নিয়েছেন, তাঁদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।






