কলকাতা

‘ডিজে মামলা’য় দিতেই হবে কণ্ঠস্বরের নমুনা, অভিষেককে কড়া হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

শুক্রবার মামলার শুনানিতে তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য

Truth of Bengal: আদালতে মামলা করে আর সময় নষ্ট নয়। ‘ডিজে মামলা’য় তদন্তের স্বার্থে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুক্রবার মামলার শুনানিতে তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, একই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন এজলাসে পৃথক মামলা করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সব কিছুর একটি সীমা থাকা প্রয়োজন। তদন্তে সহযোগিতা না করলে মামলা খারিজ করে জরিমানাও করা হতে পারে। আদালতের কড়া অবস্থানের পর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেন অভিষেকের আইনজীবী। আদালতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন অভিষেক।

বেশ কিছুদিন ধরেই তথাকথিত ‘ডিজে মন্তব্য’ সংক্রান্ত মামলায় তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন অভিষেক। সিআইডির তলবে একবার হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে তদন্তকারীরা তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চাইলে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সাংসদ। অভিষেক আগেই স্বীকার করেছিলেন, সংশ্লিষ্ট মন্তব্যে শোনা কণ্ঠস্বরটি তাঁরই। তাঁর আইনজীবীর প্রশ্ন ছিল, মক্কেল যখন নিজেই কণ্ঠস্বরের দায় স্বীকার করছেন, তখন আলাদা করে নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন কেন? গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শুনানির সময় বিচারপতি অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তাঁর মক্কেল কবে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তদন্তে সহযোগিতা না করলে অভিষেককে দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হবে। নোটিসে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেন বিচারপতি।

বিচারপতি বলেন, “রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ অথবা না—উত্তর দিন। তা না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।” এরপর অভিষেকের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল সংশ্লিষ্ট কণ্ঠস্বর নিজের বলে স্বীকার করেছেন। তবে নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়ার আগে তাঁর বক্তব্য শোনা হয়নি এবং সেই সিদ্ধান্তকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশের উপর কোনও রক্ষাকবচ রয়েছে—এমন দাবি তাঁরা কখনও করেননি।আদালত জানায়, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিষেককে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা। সেই শর্তেই তাঁকে ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রটেকশন’ দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার কথা জানান অভিষেকের আইনজীবী। তবে সেখানে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে যাতে কেউ ডিম না ছোড়ে, তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়। পুলিশকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Related Articles