৩৩ বছর পর খুলবে একুশে জুলাইয়ের ফাইল? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কাছে ৬ দফা দাবি কাকলির
বুদ্ধদেব-বিমানের পাশাপাশি মণীশ গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন! মমতার ‘প্রিয়পাত্র’ আমলাকে তোপ
Truth of Bengal: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন ১৩ জন নিরীহ কর্মী। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ ৩৩ বছর কেটে গেলেও নিহতদের পরিবার আজও প্রকৃত ন্যায়বিচার পায়নি। বর্তমানে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI) দলে নাম লেখানো বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। কাকলির স্পষ্ট অভিযোগ, ২০১১ সালে ‘পরিবর্তনের’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শহিদদের রক্ত বিক্রি করে রাজনীতি করলেও, তাঁদের আইনি বিচার এনে দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিগত সরকার এই বহুচর্চিত মামলাটি নতুন করে খোলেনি (Reopen) এবং বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টও জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি।
বুদ্ধদেব-বিমানের পাশাপাশি মণীশ গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন! মমতার ‘প্রিয়পাত্র’ আমলাকে তোপ
মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা তিন পাতার চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, সেদিনের গুলিকাণ্ডকে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশন ‘‘বিনা উসকানিতে, অসাংবিধানিক ও অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছিল। জ্যোতি বসুর সরকারের রাজনৈতিক নির্দেশেই লালবাজারের পুলিশ যুবকদের বুকে গুলি চালিয়েছিল। তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সিপিএম নেতা বিমান বসুর পাশাপাশি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের ভূমিকাও এই নৃশংসতার পেছনে ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় জালিয়াতি করেছে তৃণমূল সরকার। ক্ষমতায় এসে মমতার সরকার মণীশ গুপ্তকে শাস্তি দেওয়া দূর অস্ত, উল্টে তাঁকে নিজেদের দলে টেনে প্রথমে রাজ্যের মন্ত্রী এবং পরে রাজ্যসভার সাংসদ করে পুরস্কৃত করেছে!
লালবাজার ও রাইটার্স থেকে ফাইল লোপাট! শুভেন্দুর ওপর ভরসা বিক্ষুব্ধদের
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আরও মারাত্মক অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় লালবাজার এবং রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে ২১ জুলাইয়ের মামলার বহু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথিপত্র রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। কিন্তু নবান্নের তরফে সেই ফাইল চোরদের ধরতে বা নথি উদ্ধারে কোনও তদন্তই করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করেছেন কাকলি। তাঁর দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, মামলার পুনরায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা, কমিশনের রিপোর্ট সরকারিভাবে প্রকাশ করা, দোষী পুলিশ ও আমলাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করা এবং নিহতদের পরিবারের উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
বর্তমানে কালীঘাটের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির নির্বাচন কমিশনে দরবার করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’, দুই শিবিরের মধ্যে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আইনি দড়ি টানাটানি চলছে। ঠিক এই আবহেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবিরকে এক চরম অস্বস্তির মুখে ফেলে দিল।





