কলকাতা

‘কলম ফিরহাদ হলে, দোয়াত তো মমতা!’ তারাতলা কাণ্ডে ‘কালী’ নিয়ে তোপ শুভেন্দুর

প্রমাণ থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি

Truth of Bengal: তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে এবার রাজনৈতিক তরজা চরমে। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ফিরহাদ যদি ‘কলম’ হন, তা হলে ‘দোয়াত’ হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রমাণ থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিল্ডিংয়ের নকশা ও নির্মাণ সংক্রান্ত অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কালীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কালীচরণের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে শুধুমাত্র কালীচরণের গ্রেপ্তারিতে সন্তুষ্ট নন মমতাপন্থী তৃণমূলের একাংশ। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা খতিয়ে দেখে তাঁকেও গ্রেপ্তার করতে হবে। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই ফিরহাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, “শুধু কালীকে ধরলেই হবে না। কলম-দোয়াতকেও ধরতে হবে।” সেই মন্তব্যের জবাবেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁকে তোলার তুলেছি। পেন ফিরহাদ হাকিম হলে, দোয়াত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে পেন জেলে গেলে দোয়াতকেও যেতে হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কোনও পদক্ষেপ করবে না। তবে প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “একসঙ্গে সবাইকে যেতে হবে। কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। প্রমাণ থাকলে কাউকে ছাড়ব না। নিশ্চিন্তে থাকুন।” তারাতলা বিপর্যয় ঘিরে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোরও ক্রমশ বাড়ছে। কালীচরণের গ্রেপ্তারের পর এবার নজর প্রাক্তন পুর প্রশাসনের শীর্ষ মহলের দিকে। বিরোধী ও শাসকদলের একাংশের দাবি, এই ঘটনায় শুধু নিচুতলার কর্মী বা আধিকারিক নয়, সিদ্ধান্তগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত বড় নামগুলির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Related Articles