দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে শিশির অধিকারী, কৃষ্ণনামে উদ্বাহু হয়ে নাচ মুখ্যমন্ত্রীর বাবার
মমতার স্বপ্নের মন্দিরে এবার রথযাত্রার সূচনা করবেন শিশির অধিকারী? ইসকন থেকে অপসারিত রাধারমণকে নিয়ে মেগা প্ল্যান!
Truth of Bengal: ২০২৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে দিঘায় এই বিশালাকার মন্দিরটি গড়ে তুলেছিলেন। তবে ছাব্বিশের ভোটে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ধামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘জগন্নাথ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র’। নাম পরিবর্তনের পর এই প্রথম রবিবার সন্ধ্যায় সেখানে মহাসমারোহে উপস্থিত হন কাঁথির শান্তিকুঞ্জের অভিভাবক শিশির অধিকারী। সেখানে আরতি ও পূজার্চনার মাঝে হঠাৎই তাঁকে চেনা রাজনৈতিক মেজাজ ছেড়ে করতাল ও খোল-করতালের শব্দে দু’হাত তুলে নাচতে দেখা যায়।
অশীতিপর নেতার এই পরম আধ্যাত্মিক রূপ দেখে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি মৃদু হেসে জানান, “কৃষ্ণনামে মেতে ওঠা বা আধ্যাত্মিকতা আমাদের পারিবারিক স্টাইল। রাধাকৃষ্ণ আমাদের কুলদেবতা। সবসময় আমরা তাঁর পুজো করে, আশীর্বাদ নিয়েই জীবনের পথে এগিয়ে যাই।” দিঘার এই বিশাল ক্ষেত্রে যেভাবে নিখুঁত বৈদিক আচার মেনে জগন্নাথদেবের নিত্যসেবা ও পূজার্চনা হচ্ছে, তা দেখে তিনি বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অপসারিত রাধারমণ দাসের নতুন ইনিংস দিঘায়, ট্রাস্টি বোর্ডে দাপট!
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দিঘার এই পুজো পরিচালনার পুরো কৃতিত্ব শিশির অধিকারী দিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান সদস্য রাধারমণ দাসকে। কাকতালীয়ভাবে, শনিবার রাতেই অভ্যন্তরীণ বিতর্কের জেরে কলকাতা ইসকনের সহ-সভাপতি পদ খুইয়েছেন রাধারমণবাবু। পদ হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দিঘার এই জগন্নাথ ক্ষেত্রে চলে আসেন এবং সোমবারের স্নানযাত্রার মহাপ্রস্তুতি শুরু করে দেন। রাধারমণবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে শিশিরবাবু বলেন, “উনি যেভাবে এখানকার কাজকর্ম সামলাচ্ছেন, মনে হচ্ছে উনিই সব। আমার খুব ভালো লেগেছে।”

মমতার জায়গায় এবার শুভেন্দুর বাবা? ১৬ জুলাইয়ের রথযাত্রার আমন্ত্রণ
রাধারমণ দাস নিজেই জানান, আগামী ১৬ জুলাই দিঘার এই সংস্কৃতি ক্ষেত্রে মহা ধুমধামে রথযাত্রা উদযাপিত হবে। আর সেই ঐতিহাসিক রথযাত্রার রশিতে টান দিয়ে উদ্বোধনের জন্য তিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাধারমণবাবুর কথায়, “জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার ঠিক আগের দিন আমরা মাননীয় শিশিরবাবুকে আমাদের মাঝে পেয়ে ধন্য। ওঁর হাত দিয়েই এবার রথের শুভ সূচনা করাতে চাই।”
গত বছর দিঘার প্রথম রথযাত্রার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছিলেন। তবে এবার রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ায় দিঘার রথযাত্রার রাশ যে পুরোপুরি অধিকারী পরিবারের হাতে চলে যাচ্ছে, রবিবার শিশিরবাবুর প্রথম দিঘা সফরে সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






