শিলিগুড়ি-দুর্গাপুর-আসানসোলে মেট্রো পরিষেবার পরিকল্পনা, বাজেটে ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
নতুন সরকারের বাজেটে সেই প্রকল্পগুলিকে নতুন গতি দেওয়ার ইঙ্গিত মিলল
Truth of Bengal: সরকার বদলের পর থেকেই রাজ্যের পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কথা বলে আসছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, যেসব শহরে জনসংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের বেশি, সেখানে দ্রুতগামী গণপরিবহণের প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং শিল্পাঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর দুর্গাপুর ও আসানসোলে মেট্রো পরিষেবা চালুর ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তিন শহরের যানজট কমবে এবং দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু মেট্রো নয়, আকাশপথেও যোগাযোগ বাড়াতে বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। পুরুলিয়া এবং মালদহে নতুন বিমানবন্দর তৈরি করবে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই জেলায় বিমানবন্দর তৈরির আলোচনা চলছিল। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পুরুলিয়ার ছররা এলাকায় জমি জরিপের কাজ কিছুটা এগোলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। মালদহেও একইভাবে বিমানবন্দর নিয়ে আলোচনা হলেও কাজ বিশেষ এগোয়নি। নতুন সরকারের বাজেটে সেই প্রকল্পগুলিকে নতুন গতি দেওয়ার ইঙ্গিত মিলল।
মালদহে বিমানবন্দর তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের বিমান যোগাযোগ আরও মসৃণ হবে। বর্তমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উপর চাপ অনেক বেশি। মালদহে বিমানবন্দর তৈরি হলে উত্তর ও মধ্যবঙ্গের বড় অংশের যাত্রীদের সুবিধা হবে। অন্যদিকে পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর তৈরি হলে জঙ্গলমহল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। দুর্গাপুরের অন্ডাল বিমানবন্দরের পাশাপাশি পুরুলিয়ার বিমানবন্দর শিল্প, পর্যটন এবং প্রশাসনিক সংযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বাজেটে আরও একটি বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমাতে কলকাতার অদূরে আরও একটি বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়ানের চাপ সামাল দিতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
সামুদ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরের অদূরে দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বাণিজ্য, রফতানি এবং শিল্প বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্যও রাজ্যের তরফে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। হাসিমারা এবং কলাইকুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটির সম্প্রসারণে জমি দেবে রাজ্য সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, হাসিমারার জন্য ২৫ একর এবং কলাইকুণ্ডার জন্য ৩৭ একর জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।






