সংঘর্ষবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ফের ইজরায়েলি হামলা
শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনিভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ইরান-আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শান্তিবৈঠক।
Truth of Bengal: মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইজরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবোল্লা। কিন্তু সেই সমঝোতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। সংঘর্ষবিরতির ঘোষণার পরই দক্ষিণ লেবাননে ফের বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। এর ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরান ও আমেরিকার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা।
শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনিভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ইরান-আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শান্তিবৈঠক। তবে শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। কূটনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, লেবাননে চলতে থাকা ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের জেরেই আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে ইজরায়েল ও হিজবোল্লার মধ্যে সংঘর্ষবিরতির খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল।
সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে জেনিভার উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু তার মধ্যেই সামনে আসে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইজরায়েলি হামলার খবর। লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছেন, শনিবার গভীর রাত থেকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে এলাকায় একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। ভোর পর্যন্ত চলা এই হামলায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবেই লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি তুলেছিল ইরান। কিন্তু সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বারবার আলোচনার প্রক্রিয়া বাধার মুখে পড়ছে। হিজবোল্লার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর যুক্তি দেখিয়ে ইজরায়েল যে ভাবে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে, তাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানন ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসন এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যও তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটনের তরফে একাধিকবার সংযমের বার্তা দেওয়া হলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও বড় ধাক্কা দিতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।






