রাজ্যের খবর

বোলপুরে জমি দখলের অভিযোগে তোলপাড়, নাম জড়াল তৃণমূল নেতার

অভিযোগকারীদের দাবি, কাটমানি, তোলা আদায়ের অভিযোগের পর এবার সামনে এসেছে ‘জমি হাঙর’-এর নতুন অধ্যায়।

Truth of Bengal: সৌতিক চক্রবর্তী: বোলপুরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে নতুন বিতর্ক ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিলরের স্বামী তথা বোলপুরের তৃণমূলের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ রায় ওরফে হারুর বিরুদ্ধে উঠেছে জমি দখল ও প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, কাটমানি, তোলা আদায়ের অভিযোগের পর এবার সামনে এসেছে ‘জমি হাঙর’-এর নতুন অধ্যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি জমি রয়েছে। কর্মসূত্রে ওই ব্যক্তি বাইরে থাকায় বর্তমানে জমিটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন তাঁর দাদা। অভিযোগ, সেই ব্যক্তিকেই ফোন করে জমির একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন তৃণমূল নেতা হারু।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনালাপে কার্যত হুমকির সুরে বলা হয়,সকালেই তৃনমূলের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার সঙ্গে কথা হয়েছে ওই জমির অর্ধেক অংশ হনুমান মন্দিরের ভোগ ঘর তৈরির জন্য দিতে হবে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, এলাকার কিছু যুবক তৎকালীন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার জন্য ভোটের সময় অনেক পরিশ্রম করেছে, তাই তাদের জন্য ওই জায়গায় “দাঁড়ানোর জায়গা” তৈরি করতে হবে। এমনকি জমি না দিলে “ফেঁসে যাওয়ার” আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তিনি আরোও বলেন ,‘আমরা ওইরকম নেতা নয় যে মেরে খাবো। আমরা অ্যাপ্রচ করে খাই।’

এছাড়াও অভিযোগ, ফোনে আশ্বাস দিয়ে বলা হয় বাকি জমিতে পৌরসভার মাধ্যমে বাড়ি করে দেওয়া হবে। এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন— একজন রাজনৈতিক নেতার পক্ষে কীভাবে সরকারি প্রকল্প বা পৌরসভার বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব? বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই মন্তব্য থেকেই সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্রভাব ও সম্ভাব্য দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলছে।
যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত নেতা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এখন দেখার, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ করে কিনা।

Related Articles