‘স্যাটা গরম’ মন্তব্যে জোর বিতর্ক! সমালোচকদের পাল্টা জবাব উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথের
তোলপাড় করা মন্তব্যের পর বীরভূমের ভাষাতেই সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
Truth of Bengal: রাজ্যে ঐতিহাসিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই উচ্চশিক্ষা দফতরে স্বচ্ছতা আনতে মরিয়া নতুন সরকার। কিন্তু এরই মাঝে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সম্প্রতি নেটপাড়ায় তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay)। একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব।” এই ‘স্যাটা গরম’ মন্তব্য ঘিরে যখন ভদ্রসমাজে নিন্দার ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই সোমবার বীরভূমের বোলপুর সংলগ্ন কঙ্কালীতলায় দাঁড়িয়ে সেই সমালোচকদের এক হাত নিলেন মন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষা তাঁর অহংকার, আর তা বলতে তিনি কারও তোয়াক্কা করেন না।
“সামান্য দুটি শব্দ বলেছি অমনি গুঁতিয়ে দিছেন!”
সোমবার কঙ্কালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের একটি জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে এসেছিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় খাস বীরভূমের রাঢ় অঞ্চলের টানেই বলেন, “আমি বীরভূমের ছেলে। নিজের মাতৃভাষাতেই কথা বলব। তাতে কারও পছন্দ হোক বা না হোক, বীরভূমের ভাষায় কথা বলা বন্ধ হবে না। সামান্য দুটি শব্দ বলেছি অমনি গুঁতিয়ে দিছেন, খেদিয়ে দিছেন! এ মানব না।”

সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারাই বলেন মানুষের কী বলা উচিত, কী খাওয়া উচিত বা পরা উচিত, তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাহলে আমার নিজের জেলার ভাষা নিয়ে এত আপত্তি কেন? এত জ্বালা কেন? যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁরা আসলে আমাদের ভাষা না বুঝে গোটা রাঢ়বঙ্গের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে অপমান করছেন।”
কলেজে তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন নামী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেদার অর্থ আদায়ের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সেই সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি রুখতে নতুন সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করতেই ওই মন্তব্য করেছিলেন সিউড়ির বিধায়ক।
জগন্নাথবাবু স্পষ্ট করেন, তাঁর ভাষার হয়তো আভিধানিক গাম্ভীর্য নেই, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে থাকা বার্তাটি অত্যন্ত কঠোর। নতুন শিক্ষা মন্ত্রীর এই ‘রাঢ়বঙ্গ ডায়লগ’ আগামিদিনে কলেজ ক্যাম্পাসের তোলাবাজদের মনে কতটা ত্রাস তৈরি করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
