রাজ্যে প্রবেশ করল মৌসুমী বায়ু, উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস
বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের কারণে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে।
Truth of Bengal: অবশেষে রাজ্যে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের অনুকূল পরিস্থিতির জেরে বর্ষা ঢুকতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে দফায় দফায় বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বর্ষা প্রবেশ করলেও তা এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে বর্ষা রেখা পুরুলিয়া, ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ, বিহারের মুজফ্ফরপুর হয়ে নেপালের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশ এবং ওড়িশার আরও বেশ কিছু এলাকায় মৌসুমী বায়ু প্রবেশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের কারণে প্রচুর জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে। এর জেরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে।
উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। রবিবার থেকে ১৯ জুন শুক্রবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। তবে ১৬ ও ১৭ জুন, অর্থাৎ মঙ্গল ও বুধবার আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রপাতের সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও আকস্মিক ঝড়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা।
দক্ষিণবঙ্গে আজ পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।
বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বনিম্ন ৬১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ফলে বৃষ্টি না হলে অস্বস্তিকর গরমের পরিস্থিতি বজায় থাকছে।





