“সুদীপ-পার্থরা আজ এনডিএ, দল ২০১৯ থেকে শিক্ষাই নেয়নি!”, ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক দেবাংশু ভট্টাচার্য
তৃণমূলের ভরাডুবির আসল ‘ভিত’ তৈরি হয়েছিল ২০২১-এই? নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম কাঠগড়ায় তুললেন দেবাংশু
Truth of Bengal: লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee) এবং নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের (Partha Bhowmick) দিল্লির বিজেপি শিবিরে যোগ দেওয়ার খবর সামনে আসতেই কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল ঘাসফুল শিবিরের অন্দরমহল। দলত্যাগী প্রবীণ নেতাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি, এবার নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পুরোনো ভুল ও নীতিহীন রাজনীতিকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তৃণমূলের তরুণ তুর্কি তথা প্রধান মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। শনিবার নিজের ফেসবুক ওয়ালে এক দীর্ঘ ও নজিরবিহীন বিস্ফোরক পোস্ট করে দেবাংশু দাবি করেছেন, দল ২০১৯ বা ২০২১ সালের ভুল থেকে কোনও শিক্ষাই নেয়নি, যার চরম মাশুল আজ ছাব্বিশের জুনে এসে গুনতে হচ্ছে মমতার দলকে।
“সুদীপের জন্য বঞ্চিত হয়েছিলেন তাপস-সজলরা”
দেবাংশু তাঁর পোস্টে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত ‘কারসাজি’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, “সুদীপ ব্যানার্জির জন্য একসময় প্রবীণ নেতা তাপস রায়কে বঞ্চিত করা হয়েছিল। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে তাঁর কলকাতার সভাপতিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর সঙ্গে বিন্দুমাত্র আলোচনা না করেই। অথচ আজ সেই তাপস রায় রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, আর যাঁর জন্য এত কিছু, সেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এনডিএ (NDA) শিবিরে!”

এখানেই থামেননি দেবাংশু। তিনি বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “সুদীপ ব্যানার্জির জন্যই সজল ঘোষরা একসময় দল থেকে বেরিয়ে গেছিল। সুদীপ ব্যানার্জির চেলাদের চক্রান্তে সজল ঘোষকে পুলিশ দিয়ে দরজা ভেঙে বের করে আনা হয়েছিল, যা গোটা কলকাতা দেখেছিল! আজ সেই সজল ঘোষ কাউন্সিলর, বিধায়ক এবং সম্ভবত ভবিষ্যতের মেয়রও হতে চলেছেন।”
অর্জুন সিং ও পার্থ ভৌমিককে নিয়ে বড় তোপ
ব্যারাকপুরের দীর্ঘদিনের সমীকরণ নিয়ে দলের অন্দরের ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন এই যুব নেতা। তিনি মনে করিয়ে দেন, “২০১৯ সালে দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য আমরা প্রথমে অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম। পরে সেই দীনেশই বিজেপিতে চলে গেছিল। এরপর অর্জুন যখন আবার ফেরত এসেছিল, তখন পার্থ ভৌমিকের জন্য আমরা দ্বিতীয়বার অর্জুন সিংকে দূরে সরিয়েছিলাম। আজ ফলাফল কী? অর্জুন সিং আজ বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মিনিস্টার। আর যার জন্য তাঁকে সরানো হয়েছিল, সেই পার্থ ভৌমিকও আজ এনডিএ-তে সামিল!”
![]()
“২০২১ সালের রেড কার্পেটই আজকের ধ্বংসের ভিত”
দলের বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতির জন্য মমতার পুরনো ‘ডিগবাজি খাওয়া নেতাদের স্বাগত জানানোর’ নীতিকেই দায়ী করেছেন দেবাংশু। তাঁর স্পষ্ট কথা, দল যদি কোনওদিন অলৌকিকভাবে ক্ষমতায় ফেরে, তবে আবারও এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়েরাই রেড কার্পেট পেয়ে দলের মাথায় বসবেন এবং রাজত্ব করবেন। কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, ভোট মিটতেই তাঁদের যেভাবে পুনরায় দলে ফিরিয়ে রাজকীয় পদ দেওয়া হয়েছিল, তখনই দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছে একটা ভুল বার্তা চলে গিয়েছিল। বার্তাটা ছিল, “বিপদে এই দলের সঙ্গ ছাড়লেও, ভালো সময় এলে পুনরায় ফেরত আসা যায়, নেতা হওয়া যায় এবং রাজত্বও করা যায়।” দেবাংশুর মতে, দলনেতৃত্বের সেদিনকার সেই আত্মঘাতী সোনালি বার্তাই আজ তৃণমূলের এই চূড়ান্ত পরিণতির মূল ভিতিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। দেবাংশুর এই আত্মোপলব্ধিমূলক পোস্টটি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।





