কলকাতা

“অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু?” যুবভারতীর ‘মেসি-কাণ্ড’ নিয়ে রাজ্যকে রিপোর্ট জমার নির্দেশ আদালতের

অন্য জায়গায় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত

Truth of Bengal: যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু? তিনি কেন আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকার এত কাছে গিয়েছিলেন? অন্য জায়গায় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যুবভারতীর ওই দিনের ঘটনায় লিয়োনেল মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল। মামলাকারী তখন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আচরণ নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। বিচারপতির মন্তব্য, একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ ছবিতে দেখা গিয়েছে, সেটিকে কীভাবে বিচার করা হবে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মেসির এত কাছে এত মানুষ কীভাবে পৌঁছে গেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট। পুলিশের কাছ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের মামলার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কি না, তাও আদালত খতিয়ে দেখবে। তবে আপাতত ঘটনার তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে তাঁকে হাজির হতে হবে। শুধু তাই নয়, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি শহরের বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অনুষ্ঠানের জন্য ৭০ হাজার টিকিট ছাপা হয়েছিল। অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস একাই তাঁর বিধানসভা এলাকার জন্য ২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন। এমনকি একাধিক ক্লাবকে তিনি টিকিট বিক্রি করেছেন বলেও আদালতে দাবি করেন শতদ্রুর আইনজীবী।

গ্রেফতারির আশঙ্কায় সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রক্ষাকবচের আবেদন জানান। এর আগে যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। অরূপ বিশ্বাস-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় মামলা রুজু হয়। যুবভারতীর ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, মেসিকে ঘিরে বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন। ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলার কারণে টিকিট কেটেও বহু দর্শক মেসিকে দেখতে পাননি। সেই বিতর্কের মধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই আগাম জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। এবার রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে হাই কোর্টে ফের আবেদন করেন অরূপ বিশ্বাস। তবে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশের পর মেসি-কাণ্ডে তাঁর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles