রাজ্যের খবর

অশোকনগরে পুলিশের জালে প্রাক্তন বিধায়কের ‘ডান হাত’ গুপী, পালাবদলের পর বড় পদক্ষেপ

কয়েকদিন আগে এলাকায় ফিরতেই সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ

Truth of Bengal: এবার পুলিশের জালে অশোকনগরের প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রবীর মজুমদার ওরফে গুপী। পালাবদলের পর দীর্ঘদিন এলাকা থেকে বেপাত্তা ছিলেন তিনি। তবে আত্মগোপন করেও শেষরক্ষা হল না। কয়েকদিন আগে এলাকায় ফিরতেই সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, পুরনো শ্লীলতাহানি, হুমকি এবং মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রবীর মজুমদারকে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ বলেই দাবি স্থানীয়দের। কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন গুপী। পরে জীবিকার জন্য অশোকনগরের একটি কলেজের ক্যান্টিন চালাতেন তিনি। তাঁর স্ত্রী সরকারি কর্মী। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন প্রবীর। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়।

পরবর্তীতে নারায়ণ গোস্বামী অশোকনগরের বিধায়ক হওয়ার পর গুপীর প্রভাব আরও বাড়ে। তিনি হাবড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হন। অভিযোগ, সেই রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় তোলাবাজি, হুমকি, ভয় দেখানো এবং মারধরের মতো একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম জড়ায়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৃণমূল জমানায় অশোকনগর এলাকায় তিনি কার্যত প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। গত বছর এপ্রিল মাসে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল অশোকনগর। সেই সময় টাকার বিনিময়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নির্যাতিতার পরিবারকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে গুপীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পরিবার রাজি না হওয়ায় নাবালিকার মাকে মারধরও করা হয়। যদিও এত অভিযোগের পরেও দীর্ঘদিন এলাকায় প্রভাব বজায় রেখেছিলেন তিনি বলে দাবি স্থানীয়দের।

পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতেই আত্মগোপন করেন গুপী। এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে জনরোষও বাড়ছিল। সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে তিনি ফের অশোকনগরে ফিরে আসেন। এরপরই সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে শুধু প্রবীর মজুমদার নন, তৃণমূল জমানায় অশোকনগর এলাকায় আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার দাপট ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। গুপীর গ্রেপ্তারির পর তাই অশোকনগরের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Related Articles