এনআইএ হেফাজতে নির্ঘুম রাত শওকতের! ১টা রুটি খেয়েই ভোর পর্যন্ত সেলে পায়চারি ক্যানিংয়ের ডনের
“সব দোষ অভিষেকের, ওরাই ফাঁসিয়েছে!”, শওকত মোল্লা গ্রেফতার হতেই বিস্ফোরক পরিবার
Truth of Bengal: ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-র হেফাজতে প্রথম রাত কেমন কাটল ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার (Saokat Molla)? সূত্রের খবর, নিউটাউনের এনআইএ ডেরায় শওকতের প্রথম রাত মোটেও সুখকর ছিল না। প্রায় গোটা রাত না ঘুমিয়ে, অনাহারেই কেটেছে এই হেভিওয়েট নেতার। একদিকে যখন লকআপের চার দেওয়ালে বন্দি হয়ে ছটফট করছেন শওকত, ঠিক তখনই তাঁর এই পরিণতি নিয়ে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে বোমার মতো আছড়ে পড়েছে তাঁর পরিবারের এক বিস্ফোরক দাবি। শওকতের পরিবারের সদস্যদের সরাসরি অভিযোগ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Abhishek Banerjee) চক্রান্ত করে শওকতকে ভাঙড়ে প্রার্থী করে ফাঁসিয়েছেন!
অপছন্দের সেল, মাত্র একটা রুটি খেয়েই রাত কাবার!
শুক্রবার গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতারির পর শনিবার শওকত মোল্লাকে বিশেষ এনআইএ আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তাঁকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিতেই নিউটাউনের গোপন ডেরায় নিয়ে আসা হয় প্রাক্তন বিধায়ককে। লকআপে ঢোকার পর থেকেই কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন শওকত।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, যে সেলে তাঁকে রাখা হয়েছে, তা মেটেও পছন্দ হয়নি এই বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত নেতার। রাতে তাঁকে খাবার দেওয়া হলেও, তিনি মাত্র একটি রুটি ও সামান্য তরকারি মুখে দিয়ে থালা সরিয়ে দেন। এরপর প্রায় গোটা রাত সেলের ভেতরেই উদভ্রান্তের মতো পায়চারি করতে দেখা যায় তাঁকে। দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি, কেবল ভোররাতের দিকে সামান্য চোখ লেগেছিল তাঁর। রবিবার সকালে অবশ্য তাঁকে নিয়মাফিক চা-বিস্কুট দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
“অভিষেককে বারণ করেছিলেন শওকত, তাও শোনেননি ভাইপো!”
শনিবার আদালতে পেশের সময় পরিবারের লোকজনকে দেখে কেবল মৃদুস্বরে শওকত বলেছিলেন, “ভাল আছি।” কিন্তু তাঁর এই ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত চেহারা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, শওকত মোল্লা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক হিসেবেই খুশি ছিলেন এবং সেখানেই কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের শীর্ষনেতৃত্ব তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জোর করে তাঁকে ভাঙড় বিধানসভার দায়িত্ব দিয়ে সেখানে প্রার্থী করেন। শওকত বারবার অনুরোধ করলেও অভিষেক তা কানে তোলেননি। আর ভাঙড়ের সেই বোমাবাজি, হিংসা ও রাজনৈতিক গণ্ডগোলের জেরেই আজ শওকতের নাম জড়িয়ে দেওয়া হল বলে পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ।
টানা জেরা, গ্রেফতারির ধকল এবং পরিবারের এই চাঞ্চল্যকর বিদ্রোহের জেরে ছাব্বিশের বঙ্গে আদি তৃণমূলের অন্দরের ফাটল যে আরও চওড়া হলো, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এনআইএ-র ম্যারাথন জেরা পর্বে শওকত মুখ খোলেন নাকি ‘ভালো তৃণমূল’ শিবিরের কোনও নতুন সমীকরণ সামনে আসে।




