রাজ্যের খবর

মহারাষ্ট্র মডেলে হাতছাড়া হবে দল-প্রতীক! ঋতব্রত-সন্দীপনদের তুলোধনা করে মোক্ষম জবাব মমতার

তৃণমূলে মুষলপর্ব! এবার কি হাতছাড়া হবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক? ঋতব্রত-সন্দীপনকে তাড়িয়ে বিস্ফোরক মমতা

Truth of Bengal: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র ডামাডোল। সই জাল কাণ্ডে হাওড়ার উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের পর ঘাসফুল শিবিরের কোন্দল এখন কার্যত মহাসঙ্কটে রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, তবে কি মহারাষ্ট্রের রাজনীতির ছায়া এবার বাংলায়? যেভাবে উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পওয়ারের হাত থেকে তাঁদের দলের রাশ ও প্রতীক চলে গিয়েছিল, ঠিক তেমনই কি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকেও ফসকে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস?

৫০ বিধায়কের বিদ্রোহের জল্পনা, ৭৮-এ ঠেকল সংখ্যা!

ঋতব্রত ও সন্দীপন বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে আরও বড় ভাঙনের গুঞ্জন। গুঞ্জন উঠছে, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক নাকি দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে ঋতব্রত-সন্দীপনদের মাধ্যমে একটি ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছেন। তেমনটা হলে বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও হারাতে পারে তৃণমূল। এদিকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তৃণমূলের যাবতীয় দুর্নীতির খতিয়ান তিনি এবার সরাসরি সরকারকে চিঠি লিখে জানাবেন।

“আমি বড় খেলোয়াড়, বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা নেই!”

দলের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে সোমবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে ঋতব্রতকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “আমি অনেক বড় খেলোয়াড়। ও তো সিপিএম করত। আমাদেরই ভুল হয়েছিল ওকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। সেদিন সিপিএম যে ওকে তাড়িয়ে ঠিক করেছিল, অত্যন্ত এই একটা ক্ষেত্রে আমি ওদের প্রশংসা করি। তা সত্ত্বেও আমরা ওকে দু’বার সাংসদ করেছি। অন্য লোকের টিকিট কেটে এবার ওকে হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। এরা যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তার কোনও ক্ষমা নেই।” লাইভে এসে জনগণের কাছে এই ‘বিশ্বাসঘাতক’দের টিকিট দেওয়ার জন্য হাত জোড় করে ক্ষমাও চান নেত্রী।

ঘরের শত্রু বিভীষণকে নিয়ে বড় খোলসা নেত্রীর

বিজেপি যে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে তৃণমূলের দল ভাঙার চেষ্টা করছে, সেই আশঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি দলেরই এক প্রভাবশালী সাংসদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন মমতা। তিনি বলেন, “যারা রোজ গিয়ে বিজেপির সঙ্গে মিট করছে, বিজেপির কথামতো সবাইকে ডেকে ভয় দেখাচ্ছে, তাদের মধ্যে একজন সাংসদও আছেন। তিনি আবার অন্যদের ভাঙানোর চেষ্টা করছেন। ওঁর অপরাধটা কী জানেন? তিনি ওঁর ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন! সবার কি কেবল বাবা-মা এমপি হবে, আর ছেলেমেয়েরাই টিকিট পাবে? সেটা তো হতে পারে না। আমি একজন এমএলএ ছিলাম, অভিষেক একজন এমপি ছিল। এত বড় পরিবার আমাদের। আর এক-একটা পরিবারে চার ভাই থাকলে, চার ভাই-ই এমএলএ-এমপি হতে চায়! সেগুলোর কৈফিয়ত কে দেবে?” নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্ল্যাকমেইল করে দলে থাকা যাবে না, দল সমস্ত বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এই মেগা বিদ্রোহের পর বঙ্গে জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Related Articles