কলকাতা

এঁটেল মাটির জোগানে তীব্র টান! মহাসংকটে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা, পরিত্রাণ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি

হঠাৎ বন্ধ মাটি আসা, সংকটে দুর্গোৎসব! জট কাটাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দরবারে কুমোরটুলি

Truth of Bengal: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার বাকি আর মাত্র মাস চারেক। তার আগেই এক অভূতপূর্ব ও মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীদের পাড়া কুমোরটুলি। প্রতিমা গড়ার প্রধান উপাদান ‘এঁটেল মাটি’-র জোগানে তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কার্যত থমকে যেতে বসেছে উমার রূপদানের কাজ। এই সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এবং সমস্যা সমাধানের দাবিতে এবার সরাসরি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হল ক্যানেল ইস্ট রোড মৃৎশিল্পী সমিতি। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে শিল্পীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বন্ধ মাটি কাটা, হাহাকার ক্যানেল ইস্ট রোডে

সংবাদমাধ্যমে এই খবরের ওপর প্রথম আলোকপাত করার পরেই নড়েচড়ে বসেছে শিল্পমহল। মৃৎশিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়চক, জীবনতলা এবং ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রতিমা তৈরির বিশেষ এঁটেল মাটি কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর ফলে কলকাতা ও আশপাশের পুজো কমিটিগুলির জন্য প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করা কোনওভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। মাটি না আসায় প্রতিমা নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে এবং কুমোরটুলির শত শত শিল্পী ও দিনমজুর চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।’

“১০ দিনে মাটি না এলে প্রতিমা দেওয়া অসম্ভব”, আশঙ্কা শিল্পীদের

কলকাতার সিংহভাগ বড় ও বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলি বছরের শুরুতেই, বিশেষ করে জানুয়ারি মাস থেকেই কুমোরটুলির নামী শিল্পীদের ঘরে প্রতিমার বায়না দিয়ে রাখে। গত কয়েক বছরে ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর রাজ্যে দুর্গাপূজার সংখ্যা এবং জাঁকজমক দুই-ই বিপুল বেড়েছে। ফলে বর্ষা নামার আগেই মাটির প্রাথমিক প্রলেপ দিয়ে কাঠামো খাড়া রাখার লক্ষ্যমাত্রা থাকে শিল্পীদের।

কিন্তু এবার হঠাৎ মাটি আসা বন্ধ হওয়ায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তাঁদের। প্রখ্যাত শিল্পী সুবল পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই মাটি যদি দ্রুত না আসে, তবে কোনওভাবেই পুজো কমিটির হাতে নির্দিষ্ট সময়ে দেবী প্রতিমা তুলে দেওয়া যাবে না।” অন্যদিকে, প্রতিমা শিল্পী নবকুমার পাল একপ্রকার ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে বলেছেন, “আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মাটির এই সরকারি জট না কাটলে প্রবল বিপর্যয় নেমে আসবে। সময়মতো মণ্ডপে প্রতিমা পাঠানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

শ্রমিক ধরে রাখতে পকেটের টাকা গুনছেন ছোট শিল্পীরা

কুমোরটুলির বড় বড় স্টুডিওগুলিতে কিছুটা মাটি মজুত থাকলেও, সেখানেও টান ধরেছে। সবচেয়ে করুণ দশা ছোট ও মাঝারি ঘরগুলির। অনেক শিল্পীর ঘরেই জেলা থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। কাজ বন্ধ থাকলেও তাঁদের ধরে রাখতে পকেটের টাকা খরচ করে রোজের মজুরি দিতে হচ্ছে মালিকদের। বেশিদিন কাজ না থাকলে এই দক্ষ শ্রমিকরা অন্য পেশায় চলে যেতে পারেন, এই আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে স্টুডিও মালিকদের।

অতীতে করোনা মহামারির কালো মেঘের মধ্যেও যেভাবে বিধিনিষেধ মেনে প্রতিমা তৈরি ও পূজা সম্পন্ন হয়েছিল, ঠিক সেইভাবেই এবারও শুভেন্দু সরকারের সদিচ্ছায় মাটির এই আইনি জট কেটে যাবে এবং আশ্বিনের শারদপ্রাতে মহা ধুমধামেই মায়ের আরাধনা হবে, আপাতত এই আশাতেই বুক বাঁধছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা।

Related Articles