স্টার্ট-আপ দুনিয়ায় জোয়ার, ডবল ইঞ্জিন জমানার সাফল্যের খতিয়ান মোদির
অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র যৌথভাবে (পিপিপি মডেলে) কাজ করার ফলে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
Truth of Bengal: ভারত আজ উন্নয়নের পথে এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে যে, গোটা বিশ্ব এখন ভারতের এই উন্নয়ন যাত্রায় শামিল হতে চাইছে। শনিবার দেশের ৪৭টি শহরে আয়োজিত এক ‘রোজগার মেলা’ থেকে দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান ও অগ্রগতির খতিয়ান দিতে গিয়ে এই দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিশেষ মঞ্চ থেকেই তিনি কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিভিন্ন স্তরের ৫১ হাজার যুবক-যুবতীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার কটাক্ষের জবাব দিতেই মূলত গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র যৌথভাবে (পিপিপি মডেলে) কাজ করার ফলে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। গ্রামীণ ও দূরদূরান্তের এলাকার উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃত দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি নবনিযুক্ত সরকারি কর্মচারীদের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থানের একটি বাস্তব উদাহরণ দিতে গিয়ে কিছুটা রসিকতার সুরেই প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে কাজের সুযোগ ও কর্মসংস্থান এতটাই বেড়েছে যে তিনি নিজে শহরাঞ্চলে দ্রুত পিএনজি (PNG) সংযোগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত কলের মিস্ত্রি বা প্লাম্বার খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, সরকারের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পে এত বিপুল সংখ্যায় প্লাম্বার যুক্ত রয়েছেন যে, এনার্জি সংকটের আবহে শহরে দ্রুত গতিতে পিএনজি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মিস্ত্রির আকাল দেখা দিয়েছে। আজকাল কাজ করার লোক চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না, যা দেশের সক্রিয় কর্মসংস্থানেরই বড় প্রমাণ। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, বর্তমানে দেশে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি নথিভুক্ত স্টার্ট-আপ সংস্থা রয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য আরও বিপুল পরিমাণ রোজগারের পথ প্রশস্ত করবে।
তবে শুধু ঘরোয়া কর্মসংস্থানই নয়, বৈশ্বিক ও কৌশলগত দিক থেকেও এই মেলা থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত আজ একটি ‘গ্লোবাল পাওয়ার হাউস’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জাহাজ নির্মাণ থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর হাব—সব ক্ষেত্রেই লক্ষ লক্ষ দক্ষ তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর সংস্থা ‘এএসএমএল’ (ASML)-এর সঙ্গে টাটা গ্রুপের সাম্প্রতিক চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ভারতে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির দরজা খুলে দেবে। এর পাশাপাশি সুইডেনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও এআই (AI) চুক্তি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) সঙ্গে সুপার কম্পিউটিং চুক্তি নতুন প্রযুক্তির পথকে আরও মসৃণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণ এবং এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনকে টপকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে উঠে আসাই এখন ভারতের মূল লক্ষ্য।






