খেলা

বৈভবের ৩৮ বলে ৯৩ রানের ঝড়ে ভাঙল একের পর এক রেকর্ড  

এই ইনিংসের ফলে আইপিএল ইতিহাসে একাধিক রেকর্ড ভেঙে যায়।

Truth of Bengal: আইপিএল ২০২৬-এর এক ম্যাচে এমন এক পারফরম্যান্স দেখা গেল, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের অবাক করে দিয়েছে। রাজস্থান রয়্যালসের মাত্র ১৫ বছর বয়সি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে খেললেন ৩৮ বলে ৯৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। ম্যাচের পরিস্থিতি, চাপ এবং লক্ষ্য—সবকিছুকে তুচ্ছ করে তিনি যেন একাই বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র।

এই ইনিংসের ফলে আইপিএল ইতিহাসে একাধিক রেকর্ড ভেঙে যায়। সূর্যবংশী হয়ে যান সবচেয়ে কম বয়সে এক মরসুমে ৫০০ রান করা ব্যাটার। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের তরুণ তারকা ঋষভ পন্থের নামে, যিনি তুলনামূলক অনেক বেশি বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন।

বৈভবের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল গতি। চলতি মরশুমে তাঁর স্ট্রাইক রেট ২৩৬.৩, যা আইপিএলের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এত বেশি রান করা ব্যাটারদের মধ্যে এমন স্ট্রাইক রেট আগে কখনও দেখা যায়নি। এই জায়গায় তিনি পিছনে ফেলেছেন বিশ্বের নামকরা পাওয়ার হিটারদের। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, এরপর অভিষেক শর্মা, নিকোলাস পুরান, ট্রাভিস হেড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ক্রিস গেইলের মতো নাম থাকলেও, গতি ও ধারাবাহিকতায় সূর্যবংশী আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন।

একই ইনিংসের পর তিনি এক মরসুমে ৫০টির বেশি ছক্কা মারা প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে ইতিহাসে নাম লেখান। বর্তমানে তাঁর ছক্কার সংখ্যা ৫৩, যা তাঁকে আইপিএলের সর্বকালের ছক্কা হিটারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে গেছে।

ক্রিস গেইলের ২০১২ সালের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড এখনও শীর্ষে থাকলেও সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই রেকর্ডও চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ তাঁর শট নির্বাচন এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত।

রাজস্থান রয়্যালসের দলগত পারফরম্যান্সেও এই মরশুমে বড় পরিবর্তন এসেছে। পাওয়ারপ্লেতে ছক্কার নতুন রেকর্ড গড়েছে দল, যেখানে সূর্যবংশীর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। দলের বাকি ব্যাটাররাও তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের খেলা আরও আক্রমণাত্মক করেছেন।

ম্যাচে লখনউ প্রথমে ব্যাট করে ২২০/৫ রান তোলে। জশ ইংলিস ও মিচেল মার্শ ওপেনিং জুটিতে ১০৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন, যেখানে মার্শ করেন ৯৬ রান। শেষের দিকে অধিনায়ক ঋষভ পন্থের ইনিংস দলকে শক্ত ভিত দেয়।

তবে রাজস্থানের জবাবে সূর্যবংশী ও জুরেল মিলে ম্যাচ একেবারে একপেশে করে দেন। জুরেলও দ্রুত গতিতে ৫৩ রান করেন এবং দু’জনের ব্যাটিংয়ে লখনউয়ের বোলাররা কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত রাজস্থান রয়্যালস সাত উইকেটে জয় পায় এবং পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসে। এই জয়ের মাধ্যমে তাদের প্লে-অফ সম্ভাবনাও আরও শক্তিশালী হয়।

সব মিলিয়ে, আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব সূর্যবংশীর এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স নয়, বরং ভবিষ্যতের তারকা ঘোষণার মতো এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে রইল।

Related Articles