খেলা

টানেলের অন্ধকারে একাকী সম্রাট, AFC ফাইনালে হেরে মাথা নত সিআর সেভেনের

রুপোর পদক যেন গলার কাঁটা! এএফসি ফাইনালে হেরে রানার্স-আপ মঞ্চ বয়কট করে টানেলে রোনাল্ডো

Truth of Bengal: পরাজয় জিনিসটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অভিধানে নেই। রানার্স-আপ হওয়াটা তাঁর কাছে শুধুই সান্ত্বনা। আর তাই, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলের হারটা তিনি কিছুতেই হজম করতে পারলেন না। রিয়াধের আল-আওয়াল পার্কে যখন তাঁর সতীর্থরা মাথা নিচু করে রুপোর পদক নিতে মঞ্চের দিকে এগোচ্ছেন, পর্তুগিজ মহাতারকা তখন হাঁটছেন উল্টো পথে। সোজা টানেলের অন্ধকারে। যে অন্ধকার হয়তো ওই মুহূর্তের হতাশার চেয়ে তাঁর কাছে অনেক বেশি সহনীয় মনে হয়েছিল।

শনিবার রাতে কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল এক ফুটবল-ট্র্যাজেডির। গোটা ম্যাচে বল দখল থেকে শুরু করে সুযোগ তৈরি, কোনও কিছুতেই খামতি রাখেনি আল নাসের। কিন্তু ফুটবলে তো শেষ কথা বলে গোল! আর সেই গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আল নাসেরের ফরোয়ার্ড লাইনের তৈরি করা প্রতিটা সুযোগ মাটিতে মিশিয়ে দিলেন গাম্বা ওসাকার মাত্র ১৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক, রুই আরাকি। ‘সি.আর.৭’ -কে সেই অর্থে নিজের সেরা ফর্মে দেখা না গেলেও, জিততে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আল নাসের। তবে, ম্যাচের ৭ মিনিটে আবদুলরহমান ঘারিবের শট হোক বা সাদিও মানের আক্রমণ, সব গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল ওই এক তরুণের হাতে।

Cristiano Ronaldo: Al-Nassr lose AFC Champions League Two final to Gamba  Osaka - BBC Sport
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলের হারটা তিনি কিছুতেই হজম করতে পারলেন না

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিল ৩০ মিনিটের একটিমাত্র মুহূর্ত। ইসাম জেবালির মাপা থ্রু থেকে ডেনিজ হোমেটের ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। আল নাসের গোলরক্ষক বেন্টোর কিছুই করার ছিল না। ওই একটা ধাক্কাই যেন রিয়াধের রাতের চিত্রনাট্য চিরতরে বদলে দিল।

এরপর, প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, সাদিও মানে, জোয়াও ফেলিক্স এবং স্বয়ং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে গড়া এই মহাতারকার মেলা কেন বারবার বড় মঞ্চে খেই হারিয়ে ফেলে? শনিবারের রাতেও ব্যতিক্রম হয়নি। বিরতির ঠিক আগে রোনাল্ডোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭৭ মিনিটে ফেলিক্সের দূরপাল্লার বুলেট শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। শেষদিকে রোনাল্ডোর বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকহিল থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণও স্লাইডিং ব্লকে আটকে দেন তাকেরু কিশিমোতো।

এত আয়োজন, এত আক্রমণ, তবু স্কোরবোর্ড বলছে সেই ১-০। ২০২৩ সালে সৌদি আরবে পা রাখার পর থেকে রোনাল্ডোর ট্রফি ক্যাবিনেটে জমে থাকা ধুলো যেন আরও কিছুটা বাড়ল। ম্যাচ শেষে আল নাসের কোচ জর্জ জেসুস যখন হতাশাগ্রস্ত দলকে নিয়ে রানার্স-আপ মেডেল নিতে উঠছেন, রোনাল্ডোর সেই অনুপস্থিতি উসকে দিয়েছে নানা জল্পনা। কেউ বলছেন এটা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ‘উইনিং মেন্টালিটি’ বা জেতার অদম্য জেদ, কারও মতে এটা নিছকই হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তবে যে মানুষটা সারাজীবন চ্যাম্পিয়ন হতেই অভ্যস্ত, রুপোর পদক তাঁর গলায় কাঁটার মতোই বিঁধবে, এটাই তো স্বাভাবিক!

Cristiano Ronaldo injury 'more serious than expected' as Al-Nassr boss  confirms star to undergo treatment in Madrid | Goal.com India

আল নাসেরের মরশুম অবশ্য শনিবার রাতেই শেষ হয়ে যায়নি। দামাকের বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারলে সৌদি লিগের শিরোপা ওঠার একটা সম্ভাবনা এখনও বেঁচে রয়েছে। হয়তো সৌদি কেরিয়ারে দ্বিতীয় ট্রফিটির স্বাদ পাবেন সিআরসেভেন। কিন্তু এত তারকা নিয়েও বড় ম্যাচে শেষ হাসিটা কেন হাঁসতে পারছে না দল?

এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো খুঁজছেন স্বয়ং রোনাল্ডো। আর তাই রুপোর পদকের গ্লানি থেকে বাঁচতে তিনি বারবার আশ্রয় খোঁজেন টানেলের নির্জন অন্ধকারে।

Related Articles