খেলা

নক্ষত্র পতন! প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু

তাঁর আমলেই মোহনবাগান ক্লাবে ঘটেছিল যুগান্তকারী সব পরিবর্তন।

Truth of Bengal: ভারতীয় ফুটবল ও ক্রীড়া প্রশাসনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বসু, যিনি ময়দানে ‘টুটু বসু’ নামেই চিরপরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সোমবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। বর্ষীয়ান এই ক্রীড়া প্রশাসকের শারীরিক অবস্থার খবর নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং এআইএফএফ (AIFF) সভাপতি কল্যাণ চৌবে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় নিয়মিত খোঁজ নিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে গভীর রাতে ময়দানের এই অভিভাবক পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে।

মোহনবাগান ক্লাব এবং টুটু বসু ছিলেন একে অপরের সমার্থক। ১৯৯১ সালে সচিব হিসেবে ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দীর্ঘ তিন দশক তিনি সবুজ-মেরুন শিবিরের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর আমলেই মোহনবাগান ক্লাবে ঘটেছিল যুগান্তকারী সব পরিবর্তন। প্রথা ভেঙে প্রথম বিদেশি হিসেবে চিমা ওকেরিকে সই করানো থেকে শুরু করে শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার হাতে ক্লাবের মালিকানা তুলে দিয়ে ‘এটিকে মোহনবাগান’ গঠনের মতো সাহসী ও বিতর্কিত পদক্ষেপ— সবক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ক্লাবের অন্দরে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মান প্রদানের প্রথাও তাঁর হাতেই শুরু হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে, গত বছর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও বাইচুং ভুটিয়াদের উপস্থিতিতে সেই ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মান তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।

ফুটবল প্রশাসনের বাইরেও টুটু বসুর বহুমুখী পরিচিতি ছিল। তিনি একাধারে সফল ব্যবসায়ী, সংবাদপত্রের মালিক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও গত কয়েক বছর শারীরিক অসুস্থতার কারণে হুইলচেয়ারে বন্দি থাকায় তিনি সক্রিয়ভাবে ময়দানে উপস্থিত থাকতে পারতেন না, তবুও মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে তিনি সবসময়ই ছিলেন এক বটবৃক্ষের মতো। তাঁর সুযোগ্য পুত্র সৃঞ্জয় বসু বর্তমানে ক্লাবের সচিব পদে আসীন। টুটু বসুর প্রয়াণে গঙ্গা পাড়ের ক্লাবটিতে যেমন শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই কলকাতা ময়দান হারাল তার এক পরম হিতৈষীকে।

Related Articles